জল্পনাই সত্যি হল। আইএসএল থেকে নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল জামশেদপুর এফসি। ২০২৬-২৭ মরশুম থেকে দেশের শীর্ষ ফুটবল লিগে আর খেলবে না ২০২২ সালের শিল্ডজয়ী ক্লাব। শুক্রবার বিবৃতি দিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিল তারা। কীসের চাপে এত বড় সিদ্ধান্ত?
কয়েকদিন ধরেই জামশেদপুরের আইএসএল-ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইএসএলে অংশগ্রহণের প্রথম কিস্তির টাকা জমা না দেওয়ায় সেই জল্পনা আরও বাড়ে। ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ৫৫ লক্ষ টাকা করে প্রথম কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল ১৪টি ক্লাবের। সেই তালিকায় ছিল জামশেদপুর ও ইন্টার কাশীও। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ জুলাই করা হয়। ইন্টার কাশী টাকা মিটিয়ে দিলেও জামশেদপুর তা করেনি। শেষ পর্যন্ত আইএসএল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তই নিল তারা।
ক্লাবের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'জামশেদপুর ফুটবল ক্লাব নিশ্চিত করছে, ২০২৬-২৭ মরশুম থেকে আমরা আর আইএসএলে অংশগ্রহণ করব না। তবে অন্য ভাবে ভারতে ফুটবলের উন্নয়ন ও প্রসারে আমাদের দায়বদ্ধতা থাকবে। তৃণমূল স্তরে ফুটবলের প্রসার চালিয়ে যাব আমরা। সারা দেশ থেকে তরুণ প্রতিভা খুঁজে তাদের তৈরি করার কাজও চলবে, যাতে জাতীয় ফুটবল উপকৃত হয়।'
সমর্থকদের কথাও ভুলতে পারেনি জামশেদপুর। বিবৃতিতে ক্লাব বলেছে, 'গত ১০ বছর ধরে জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে যেভাবে সমর্থকেরা দলকে উৎসাহ দিয়েছেন, তার জন্য তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ। তাঁদের আবেগ ও সমর্থনেই 'ফার্নেস' গড়ে উঠেছিল। এই যাত্রাকে সফল করে তোলার জন্য সব ফুটবলার, কোচ, কর্মী এবং দলের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককেও ধন্যবাদ।'
২০১৭ সালে পথচলা শুরু জামশেদপুরের। পাঁচ বছর পর, ২০২১-২২ মরশুমে আইএসএল শিল্ড জিতে ইতিহাস তৈরি করেছিল তারা। সেই ক্লাবই এবার দেশের শীর্ষ ফুটবল লিগ থেকে সরে দাঁড়াল। তবে ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছে না তারা। বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে এআইএফএফের সমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা পাওয়ার আশা রাখি।' প্রসঙ্গত, এখন ডুরান্ড কাপ খেলছে জামশেদপুর। কিন্তু সেই দলের অধিকাংশের সঙ্গেই আগস্টের শেষ পর্যন্ত চুক্তি। গতবছরও তাই ছিল। পরে আইএসএলের কথা ভেবে কয়েকজনকে পুরো মরশুম রেখে দেয়। এবার আইএসএল না খেলার কথা শুনে সেই ফুটবলাররাও চিন্তায়।
