প্রথম ম্যাচে তুলনায় দুর্বল কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ড্র করে সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছিল স্পেন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে যাবতীয় সমালোচনার জবাব দিয়ে সৌদি আরবকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ‘লা রোখা’রা। গোল পেয়েছেন তরুণ তুর্কি লামিলে ইয়ামাল। চার বছর আগে, কাতার বিশ্বকাপের সময় স্কুলে পড়তেন। বাড়িতে বসে টেলিভিশনে বিশ্বকাপ দেখতেন। আর আজ সেই ইয়ামালই স্পেনের জার্সিতে বিশ্বকাপের মঞ্চে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন।
ছবি সংগৃহীত।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে চোটের কারণে ইয়ামালকে শুরু থেকে খেলাননি কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। কিন্তু সৌদি আরবের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁকে প্রথম একাদশে রাখেন। কোচের আস্থার মর্যাদা দিয়েছেন ১৮ বছরের তরুণ ফুটবলার। আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপে প্রথম গোলটা তুলে নিতে সময় লাগল মাত্র ১০ মিনিট। মাঝমাঠ থেকে অ্যালেক্স বায়েনা বল দেন মিকেল ওয়ারজাবালকে। বাঁদিকে বক্সের মাথা থেকে বাঁপায়ের নিখুঁত পাস বাড়ান তিনি। গোলকিপার ও ডিফেন্সের মাঝখান দিয়ে তা অরক্ষিত দ্বিতীয় বারে এসে পৌঁছয়। ঝাঁপিয়ে পড়ে পা ছুঁইয়ে গোল করেন ইয়ামাল।
এরপর স্পেন আরও তিনটি গোল করে ৪-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। জোড়া গোল মিকেল ওয়ারজাবালের, একটি আত্মঘাতী। আগের ম্যাচের ‘ভুল’ থেকে শিক্ষা নিয়ে একাধিক বদল আনেন কোচ। কিন্তু এই ম্যাচ বুঝিয়ে দিয়ে গেল, এবার ১৮ বছরের লামিনে ইয়ামালের উপর কতটা নির্ভরশীল ২০১০-র বিশ্বজয়ীরা। ম্যাচের পর ইয়ামাল বলেন, "আমি সবসময় বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখেছি। সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। গোল করতে পেরেছি। এর চেয়ে ভালো মুহূর্ত আর কী হতে পারে?"
ছবি সংগৃহীত।
চার বছর আগের স্মৃতিও তুলে ধরেন স্পেনের এই তরুণ তারকা। ইয়ামাল বলেন, "গত বিশ্বকাপ আমি বাড়িতে বসে দেখেছিলাম। তখন স্কুলে পড়তাম। আর আজ আমার পরিবার গ্যালারিতে বসে আমার খেলা দেখল। চার বছরে কত কিছু বদলে গিয়েছে।" বিশ্বকাপে গোল করে পেলের পর দ্বিতীয় কিশোর ফুটবলার হিসাবে ইতিহাস গড়েছেন ইয়ামাল। অল্প বয়সেই ক্লাব ফুটবলে নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন তিনি। স্পেনকে ইউরো কাপ জেতানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিজের স্বপ্নের উড়ান শুরু এই তরুণ তারকার।
