ফুটবলে সর্বকালের সেরা কে? লিওনেল মেসি না অন্য কেউ? এই বিতর্কের শেষ নেই। তবে এবার নিজেই সেই বিতর্কে ইতি টানলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী অধিনায়ক। নিজের ইনস্টাগ্রামে 'বার বিল'-এর আদলে একটি পোস্ট করে জাতীয় দলের হয়ে একের পর এক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেছেন মেসি। সেই বিলের শেষে লেখা, 'GOAT debate– settled'। অর্থাৎ সর্বকালের সেরা কে, সেই বিতর্কের অবসান। এত দিন এই প্রশ্ন উঠলেই নিজের নাম এড়িয়ে অন্যদের প্রশংসা করেছেন মেসি। কখনও ব্রাজিলের রোনাল্ডো, কখনও রোনাল্ডিনহো, এমনকী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নামও এসেছে তাঁর মুখে। নিজেকে নিয়ে বরাবর সংযত থাকা অন্তর্মুখী সেই মেসিই এবার স্পষ্ট করে দিলেন নিজের অবস্থান। জানালেন 'গোট' বিতর্কে আর কোনও প্রশ্নের অবকাশ নেই। কারণ তিনিই 'সর্বকালের শ্রেষ্ঠ'।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর মেসিকে বিশেষ সম্মান জানাতে অভিনব ভিডিও প্রকাশ করেছে একটি পানীয় সংস্থা। পানশালার বিলের আদলে তৈরি সেই ভিডিওতে এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি 'রসিদ'। খরচের কড়চায় আসলে লেখা এলএম১০-এর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের সাফল্যের 'এ টু জেড'। গোল, অ্যাসিস্ট, মাঠে কাটানো মিনিট থেকে শুরু করে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ, একাধিক কোপা আমেরিকা, অলিম্পিকে সোনা, ফিনালিসিমা। আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির একের পর এক কীর্তিই জায়গা পেয়েছে সেই বিলে। শুধু পরিসংখ্যান নয়, মেসির খেলা দেখে অনুপ্রাণিত কোটি কোটি সমর্থকের আবেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে সেখানে। আর সব শেষে সাবটোটাল বা টিপের ঘর নয়, একেবারে স্পষ্ট ঘোষণা, 'সর্বকালের সেরা কে, সেই বিতর্কের অবসান।'
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর মেসিকে বিশেষ সম্মান জানাতে অভিনব ভিডিও প্রকাশ করেছে একটি পানীয় সংস্থা। পানশালার বিলের আদলে তৈরি সেই ভিডিওতে এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি 'রসিদ'।
আগস্টের শেষ দিন আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি তুলে রেখেছেন লিওনেল মেসি। তাঁকে স্পেশাল ট্রিবিউট জানাতে সপ্তাহান্তে সেদেশের ফুটবলের প্রায় প্রতিটি স্তরের ম্যাচেই এক মিনিটের জন্য থামবে খেলা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশ, পুরুষ ও মহিলা দুই বিভাগেই ফুটবল, ফুটসল এবং বিচ সকারের ম্যাচে প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে এক মিনিট হাততালি দেওয়া হবে মেসির সম্মানে। যেসব স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিন রয়েছে, সেখানে ম্যাচ শুরুর আগেই দেখানো হবে মেসিকে নিয়ে এএফএ-র বিশেষ ভিডিও। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার পরেই এলএম১০-এর এই ইনস্টাগ্রাম পোস্ট।
২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হার, ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে পরাজয়, বারবার ধাক্কা খেয়েছেন তিনি। এমনকী ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও করেছিলেন। পরে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলে ফেরেন জাতীয় দলে। তার পরের গল্পটা রূপকথার মতো। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের ট্রফিখরা কাটান মেসি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূর্ণ করেন। ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ ঘরে ফেরে 'লা আলবিসেলেস্তে'র। এর পর ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকাতেও চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, "২০ বছরেরও বেশি সময়। ছ'টি ফিফা বিশ্বকাপ। অগণিত স্মৃতি। প্রতিটি পদক্ষেপে আমার পাশে থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।"
২০০৬ থেকে ২০২৬– ছ'টি বিশ্বকাপে খেলেছেন মেসি। মোট ৩৪ ম্যাচে তাঁর গোল ২১টি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি দ্বিতীয়। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের গোল ২২টি। ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, "২০ বছরেরও বেশি সময়। ছ'টি ফিফা বিশ্বকাপ। অগণিত স্মৃতি। প্রতিটি পদক্ষেপে আমার পাশে থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।" সব মিলিয়ে মেসির কেরিয়ারের সাফল্যের পরিসংখ্যান নেহাত কম নয়। তবে এবার সেই হিসাবকে একেবারে 'রসিদে'র মাধ্যমে সর্বকালের সেরা কে, সেই সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিলেন এলএম১০। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি পেলে, দিয়েগো মারাদোনা, রোনাল্ডিনহো, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর থেকে নিজেকে এগিয়ে রাখছেন মেসি? এই নিয়ে আলোচনা চলবে আগামী দিনেও।
তবে মেসির দীর্ঘ ২১ বছরের কেরিয়ারে যাঁর সঙ্গে তাঁর তুলনা বারবার ফিরে এসেছে, তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। দু'জনেই খেলেছেন ছ'টি বিশ্বকাপ। সেখানে টানা ন'ম্যাচে গোল-সহ মেসির ঝুলিতে রয়েছে ২১ গোল। ২০২২-এর বিশ্বকাপ ট্রফি। যেখানে রোনাল্ডোর গোল ১১। এর মধ্যে নকআউটে মাত্র দু'টি। বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত। দেশের হয়ে রোনাল্ডোর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ইউরো ও নেশনস লিগ জয়। আর মেসির মুকুটে রয়েছে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ, দুই-ই। আন্তর্জাতিক গোলের সংখ্যায় অবশ্য রোনাল্ডোই এগিয়ে। কিন্তু মেসির বিদায়ের পর তাঁর কেরিয়ারের ট্রফি, বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স এবং ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিকে তাকিয়ে সেই পুরনো 'গোট' বিতর্কে নতুন করে দাঁড়ি টানলেন মেসি।
