অবনমন থেকে বাঁচতে কোনও ক্লাব কী করে? কোচ বদলায়, ফর্মেশন বদল করে কিংবা প্লেয়ারদের ভালো খেলার উৎসাহ দেয়। কিন্তু যদি শেষ পর্যন্ত মাঠেই না আসে! ঠিক এই ঘটনাই ঘটাল মালদ্বীপের ফুটবল লিগের ক্লাব গ্রিন স্ট্রিট। আর আশ্চর্যের বিষয়, অবনমন বাঁচিয়েও ফেলেছে সেই ক্লাবটি। তবে পুরোটাই আপাতত। মাঠে না এসেই যেভাবে তারা অবনমন বাঁচিয়ে ফেলেছে, তাতে বিতর্ক চরমে। তাই ফিফার দ্বারস্থ হয়েছে প্রতিপক্ষ ক্লাব।
মালদ্বীপের ফুটবল নিয়ে এমনিতে কারও খুব বেশি মাথাব্যথা নেই। কিন্তু সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে ফুটবলভক্তদের চোখ কপালে উঠেছে। সেই সঙ্গে ক্লাব গ্রিন স্ট্রিটের 'বুদ্ধির' প্রশংসা ও সমালোচনা, দুটোই চলছে। ঠিক কী করেছে তারা?
মালদ্বীপের ফুটবল লিগ, অর্থাৎ ধীরাগু ধিভেহি প্রিমিয়ার লিগের শেষ পর্যায়ে ক্লাব ভ্যালেন্সিয়া ২-০ গোলে জেতে। তবে তখনও তাদের লিগে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল। তার জন্য গ্রিন স্ট্রিটকে শেষ ম্যাচ হারতে হত। আর সেটা ৪-০ গোলের ব্যবধানে। তাহলে গ্রিন স্ট্রিট অবনমনে চলে যেত। আর বেঁচে যেত ভ্যালেন্সিয়া। এখানেই আসল 'চালাকি'।
গ্রিন স্ট্রিটের শেষ ম্যাচ ছিল লিগের তৃতীয় দল নিউ রেডিয়েন্টের বিরুদ্ধে। যারা আগের ম্যাচেই অন্য এক দলের বিরুদ্ধে ৮ গোল করেছে। অতএব 'চালাকি'র পথ নিল গ্রিন স্ট্রিট। ম্যাচের দিন দেখাই দেয়নি গ্রিন স্ট্রিট। ফলে, ধরে নেওয়া হল তারা 'ওয়াকওভার' দিয়েছে ও মালদ্বীপের লিগের নিয়ম অনুযায়ী তারা ২-০ গোলে হেরেছে। সোজা কথায় ৪-০ গোলে হারেনি। আর ২-০ গোলে হারায় তাদের গোলপার্থক্য দাঁড়াল -২৬, পয়েন্ট ১২। একই পয়েন্ট ভ্যালেন্সিয়ারও, তবে গোলপার্থক্য -২৮। তাই অবনমন থেকে বেঁচে গেল গ্রিন স্ট্রিট।
এরপর ভ্যালেন্সিয়া মালদ্বীপের ফুটবল সংস্থা ও ফিফার কাছে 'ম্যাচ ফিক্সিং'-এর অভিযোগ জানায়। মালদ্বীপ ফুটবল সংস্থার তদন্তের পর গ্রিন স্ট্রিটের জরিমানা হয় এবং ট্রান্সফার ব্যান হয়। কিন্তু অবনমনের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়নি। তবে তদন্তে গ্রিন স্ট্রিট সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে। তারা জানিয়েছে, ম্যাচের দিন সকালে সবার পেট খারাপ হওয়ায় খেলতে পারেনি।
