মহামেডানের আঁধার কাটিয়ে আলোয় ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কথা রাখলেন না হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। সূত্রের খবর, ক্লাবের বিরাট অঙ্কের দেনা মেটাতে আর্থিক সাহায্য করবেন বলে জানিয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক। কিন্তু তাঁর সই করা চেক বাউন্স হয়েছে। সেটা একবার নয়, টানা তিনবার। গোটা ঘটনায় মহামেডান কর্তাদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ।
বাংলায় পালাবদলের পরই ঢেলে সাজানো হয় মহামেডান ম্যানেজমেন্ট। ক্লাবের সভাপতি পদে বসেন নওদা এবং রেজিনগরের বিধায়ক। দায়িত্ব পেয়েই তিনি বলেছিলেন ক্লাবের ১৩ কোটি টাকার দেনা মেটাতে সাহায্য করবেন। তারপরই শুরু চেক বাউন্স পর্ব। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মোট দেড় কোটি টাকার চেক দিয়েছেন নওদার বিধায়ক। কিন্তু তিনবার সেই চেক বাউন্স করেছে। সূত্রের খবর, ক্লাব কর্তাদের আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হুমায়ুন। তিনবার ফেল করার পর চতুর্থবারে আর্থিক সাহায্য মিলবেই, আশ্বাস দিয়েছেন।
মহামেডান কর্তারা এই ইস্যুতে এখনও সরকারিভাবে মুখ খোলেননি। কিন্তু হুমায়ুনের এহেন কাজে তাঁরা সকলেই ক্ষুব্ধ। নতুন কাউকে সভাপতি করার কথাও ভাবছেন ক্লাব কর্তারা, এমনটাই সূত্রের খবর। সেই নিয়ে কর্তাদের ঘনিষ্ঠমহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা। যদিও গোটা ঘটনায় কোনও ভুল দেখছেন না হুমায়ুন। তাঁর কথায়, "আমি আমার ক্লাবের স্বার্থে চেক দিয়েছি। আজ শেষ দিন হলেও ৩-৪ দিন পরে ক্লিয়ার করতে পারি। কে কী বলবে? আমি প্রেসিডেন্ট, আমি যা বলব তাই হবে। কেউ আমার পারমিশন ছাড়া কেন আগে থেকে চেক জমা করতে গিয়েছে? ২-৪ দিনের মধ্যে এই সমস্যা মিটে যাবে। আমি কারও সঙ্গে কোনও দুর্নীতি করিনি।”
যদিও ক্লাবের সহ-সভাপতি ওয়াসিম আক্রম বলছেন, ১৫ জুনের মধ্যে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা দেওয়ার কথা ছিল হুমায়ুনের। ৩০ জুলাই হয়ে গেলেও এক পয়সা মেলেনি। সেকারণে ক্লাবের সমস্যা বেড়েছে। ফুটবলার বেতন বকেয়া রয়েছে। যদিও ক্লাব কর্তাদের উদ্যোগে বকেয়া অর্থ মিটিয়ে ফিফার নির্বাসনের খাঁড়া এড়িয়েছে মহামেডান। কিন্তু ট্রান্সফার ব্যানের জেরে বিদেশি ফুটবলার সই করাতে পারেনি তারা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, হুমায়ুনকে ক্লাবের কুর্সিতে বসিয়ে আদৌ কি লাভ হল মহামেডানের?
