মোহনবাগান ১ (সন্দীপ)
খিদিরপুর ১ (তুহিন)
পাঠচক্রকে ৪-০ গোলে হারিয়ে কলকাতা লিগ শুরু করেছিল মোহনবাগান। বৃহস্পতিবার তাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল খিদিরপুর স্পোর্টিং। আগের ম্যাচেই ভবানীপুরের সঙ্গে ড্র করে মেহতাব হোসেনের দল। আর বৃহস্পতিবার দুপুরে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে আটকে দিল তারা। এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট তুলে আনতে পারল না মোহনবাগান। খেলার ফলাফল ১-১।
প্রথম ম্যাচে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঠচক্রের বিরুদ্ধে জয়ের অন্যতম ভূমিকা ছিল তাঁর। একটি গোল ছাড়াও দু'টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। গোল পেয়েছেন কিয়ান নাসিরি, সুহেল ভাটরাও। তবে এই ম্যাচে সেই ঝাঁজ উধাও। শুরুটা হয়েছিল আক্রমণ-পালটা আক্রমণের লড়াইয়ে। চতুর্থ মিনিটেই প্রথম কর্নার পায় মোহনবাগান। রাজ বাসফোরের নেওয়া সেই কর্নার অবশ্য ফলপ্রসূ ছিল না। পরক্ষণেই পালটা আক্রমণে ওঠে খিদিরপুর। বাগান রক্ষণ সতর্ক থাকায় বিপদ হয়নি। প্রথম ১০ মিনিটেই তিন-তিনবার আক্রমণ শানিয়ে সবুজ-মেরুন রক্ষণকে চাপে রাখে খিদিরপুর। এ সময় মাঝমাঠের দখলও কিছুটা হারিয়ে ফেলেছিল মোহনবাগান।
১৮ মিনিটে কিয়ান নাসিরির ফ্রিকিক দারুণ দক্ষতায় ফিস্ট করে রুখে দেন খিদিরপুর গোলরক্ষক অর্ধেন্দু দত্ত। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরেন বাস্তব রায়ের ছেলেরা। ২৭ মিনিটে বাঁদিক দিয়ে দুরন্ত দৌড়ে বক্সে ঢুকে পড়েন কিয়ান। তাঁকে আটকাতে দুই ডিফেন্ডার এগিয়ে আসতেই ফাঁকা জায়গায় বল বাড়ান তিনি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে সুন্দর ফিনিশে দলকে এগিয়ে দেন সন্দীপ মালিক। এর পাঁচ মিনিট পর সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোরাল শটও দুর্দান্ত সেভ করেন অর্ধেন্দু। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানেই এগিয়ে ছিল মোহনবাগান।
বিরতির পর ৪৬ মিনিটে সায়নের ক্রস থেকে সুহেল ভাট সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। তারই এক মিনিট পরে পালটা আঘাত হানে খিদিরপুর। তুহিন শিকদারের গোলে ১-১ সমতা ফেরে। এরপর একাধিক সুযোগ পেয়েও জয়ের গোল আর খুঁজে পায়নি মোহনবাগান। ৪৯ মিনিটে সন্দীপ মালিকের ভাসানো ক্রস বারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৫৩ মিনিটে সায়নের থ্রু বল থেকে কিয়ানকে পাস না দিয়ে নিজেই অহেতুক সময় নষ্ট করেন সুহেল। ফলে সুযোগ হাতছাড়া হয়।
৫৮ মিনিটে কিয়ানের ভাসানো বলে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও খিদিরপুরের বিক্রমজিৎ সিং শরীর ছুড়ে হেড করে কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত করেন। ৭০ মিনিটে আরও একটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেন সুহেল। ৭৬ মিনিটে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রিকিক পায় খিদিরপুর। ৮৩ মিনিটে সায়নের বাইসাইকেল কিক লক্ষ্যভ্রষ্ট। ৮৫ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রিকিক পেলেও কাজের কাজ হয়নি মোহনবাগানের। ৯২ মিনিটে রবিলাল মাণ্ডির দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট। বারবার খিদিরপুর রক্ষণের বজ্রআটুনিতে আটকে পড়ে সায়ন, রবিলাল, কিয়ান, সুহেলরা। শেষ পর্যন্ত ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দলই।
