গরম থেকে বাঁচতে স্নানযাত্রায় ১০৮ কলসি জল ঢেলে প্রতি বছর স্নান করানো হয় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে। এরপর সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হন তিন ভাইবোন। অসুখ সারাতে ১৪ দিনের জন্য তাঁদের সবার অলক্ষ্যে রাখা হয়। এই 'কোয়ারান্টিন' পর্ব শেষে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর হয় রথযাত্রা। উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের এক মন্দিরে এই ঐতিহ্যবাহী আচারে লাগল আধুনিকতার ছোঁয়া। সেখানে একজন চিকিৎসক রীতিমতো স্টেথোস্কোপ ব্যবহার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহের। এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়।
জৌনপুরের রাসমণ্ডল মন্দিরের ভিডিওটি গত মঙ্গলবারের। সেখানেই দেখা গিয়েছে, তিন দেবতার বুকে স্টেথোস্কোপ লাগিয়ে জ্বর পরীক্ষা করছেন জনৈক চিকিৎসক। যা দেখে অনেকেই বেজায় অবাক হয়েছেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। যদিও জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার জ্বর হওয়া ও স্বাস্থ্যপরীক্ষা একটি স্বাভাবিক ঘটনা।
প্রথা অনুযায়ী, স্নান পূর্ণিমার পরদিন থেকে আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা পর্যন্ত তিন ভাইবোন ভক্তদের দৃষ্টির আড়ালে থাকেন। দেবতার অসুখ নিরাময়ে এই সময় ভেষজ মিশ্রণ ও ঔষধি ক্বাথ 'ভোগ' হিসেবে নিবেদন করা হয়। এই প্রথার অংশ হিসেবে রথযাত্রার প্রস্তুতিকালীন চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল আনুষ্ঠানিকভাবে দেবতার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
জৌনপুরের মন্দিরে বৃহস্পতিবার রাজকীয় কায়দায় খিচুড়ি ভোগ নিবেদন করা হয়; এরপর ভক্ত সমাগমে রাস্তায় বের হয় প্রভু জগন্নাথের রথযাত্রা ও বার্ষিক শোভাযাত্রা। স্টেথোস্কোপে স্বাস্থ্যপরীক্ষা ভাইরাল হলেও বিষয়টি জৌনপুরের রাসমণ্ডল মন্দিরে নতুন নয়। বহু বছর ধরেই আনুষ্ঠানিক ভাবে এই রীতি পালিত হয়ে আসছে।
