মোহনবাগান ০
নর্থইস্ট ইউনাইটেড ০
(টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয়ী মোহনবাগান)
জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে গোল নষ্টের রোগ তাড়া করেছিল মোহনবাগানকে। ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালেও সেই পুরনো ব্যাধি থেকে মুক্তি মিলল না। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে ম্যাচকে কঠিন করে তুলল সবুজ-মেরুন। কোয়ার্টার ফাইনালের মতো শেষ চারের লড়াইটিও গড়াল টাইব্রেকারে। আর সেখানেই ফের মোহনবাগানের ত্রাতা বিশাল 'কাইট' কাইথ। দু'টি পেনাল্টি বাঁচিয়ে আরও একবার চওড়া হাতের পরশে দলকে ফাইনালে তুললেন তিনি। কলকাতা ডার্বি দিয়ে ডুরান্ডের যাত্রা শুরু হয়েছিল। শেষটাও হতে চলেছে সেই কলকাতা ডার্বিতেই। রবিবার ট্রফির লড়াইয়ে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল।
শেষবার দুই দলের মুখোমুখি সাক্ষাতে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল মোহনবাগান। তবে গুয়াহাটির সেই ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। বৃষ্টিতে মাঠের একাধিক জায়গা জলে ডুবে যাওয়ার পরেও খেলা হয়েছিল। এদিনও অবশ্য মাঠেই জল জমে থাকায় শুরু থেকেই বল নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় পড়লেন দুই দলের ফুটবলাররা। ৪-৪-২ ছকে দল সাজিয়েছিল মোহনবাগান। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের ছক ৪-৩-৩। অর্থাৎ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে নেমেছিল হাইল্যান্ডাররা। প্রথম ১০ মিনিটে বলের দখলও ছিল নর্থইস্টের কাছেই বেশি। ১৩ মিনিটে প্রথম সুযোগ তৈরি করে মোহনবাগান। লিস্টন কোলাসোর কর্নার থেকে গোলের সামনে বিপদ তৈরি হলেও নর্থইস্টের গোলরক্ষক ফিস্ট করে বিপন্মুক্ত করেন। ১৯ মিনিটে দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করেন আপুইয়া। যদিও তাঁর শট সোজা জমা পড়ে গোলরক্ষকের দস্তানায়।
২৩ মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় মোহনবাগান। লিস্টনের নেওয়া শট আবারও বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক। এক মিনিট পরেই আরও বড় সুযোগ। ডান দিক দিয়ে উঠে গিয়ে প্রায় জিরো অ্যাঙ্গেল থেকে শট নেন কিয়ান নাসিরি। অল্পের জন্য বল জালে জড়ায়নি। ৩৩ মিনিটে সুযোগ আসে নর্থইস্টের সামনে। রাহুল ভেকের ভুলে বল পেয়ে যান আলাদিন আজারাই। তাঁর ভলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই আলাদিনকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন আপুইয়া।
৪০ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ মোহনবাগানের। বাঁ দিক থেকে লিস্টনের বাড়ানো ক্রসে পা ছোঁয়াতে গিয়ে জলভরা মাঠে পিছলে পড়ে যান সামির জেলকোভিচ। ফলে নষ্ট হয় সুযোগ। হলুদ কার্ড দেখেন সাহাল আবদুল সামাদও। ৪৩ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে উঠে ৩০ গজেরও বেশি দূর থেকে শট নেন সাহাল। নর্থইস্টের গোলরক্ষক গুরমীত কিছুটা এগিয়ে থাকলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি মোহনবাগান ফুটবলার। দুই দল একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লিস্টন-সাহালরা আক্রমণের গতি বাড়ান। কিন্তু ফিনিশিং ঠিকঠাক হয়নি। ৫৭ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করেন মোহনবাগান কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিস। সাহাল ও কিয়ান নাসিরির জায়গায় নামেন অনিরুদ্ধ থাপা ও জেমি ম্যাকলারেন। ৬০ মিনিটে মাঝমাঠে দুর্দান্ত টার্ন নিয়ে নর্থইস্টের একাধিক ফুটবলারকে কাটিয়ে বেরিয়ে যান জেলকোভিচ। এরপর গোলের দিকে এগিয়ে গিয়ে শট নিলেও পোস্টের বেশ কিছুটা দূর দিয়ে চলে যায় বল। তবে ৬৩ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগটি পায় নর্থইস্ট। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন রাবিহ। কিছুটা সময় নিয়ে গোলের সামনে নিচু ক্রস বাড়ান। সেখানে আলাদিন আজারাই এবং এতিয়ান দু'জনেই স্লাইড করে বলের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কেউই পা ছোঁয়াতে পারেননি। নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয়।
৭১ মিনিটে সামিরের বদলে মাঠে নামেন মিগুয়েল। ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার পর এই প্রথম মোহনবাগান জার্সিতে খেললেন ব্রাজিলীয়। ৮০ মিনিটে মনবীরের জায়গায় নামেন ছাংতে। শেষ দিকে নর্থইস্ট চাপ বাড়লেও মোহনবাগানের রক্ষণ সামলে নেয় পরিস্থিতি। অতিরিক্ত সময়েও গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ফের ত্রাতা সেই বিশাল কাইথ। নর্থইস্টের মিনকোভিচ, আলাদিন ও এতিয়ান স্পট কিক থেকে গোল করলেও রবিন যাদব ও পার্থিব গগৈয়ের শট আটকে দেন বিশাল। মোহনবাগানের হয়ে রাহুল ভেকে, শুভাশিস বসু, লিস্টন কোলাসো এবং জেমি ম্যাকলারেন বল জালে জড়ান। শেষ পর্যন্ত গত দু'বারের চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্টকে হারিয়ে ১৮তম ডুরান্ড কাপ জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেল মোহনবাগান। তিন বছর পর ফের ডুরান্ড কাপের ফাইনালে কলকাতা ডার্বি। ২০২৩-এর সেই ফাইনালে দিমিত্রি পেত্রাতোসের গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ট্রফি তুলেছিল মোহনবাগান। এবারও কি তার পুনরাবৃত্তি করে সবুজ-মেরুনের হাতে উঠবে ট্রফি, নাকি ২২ বছর পর ডুরান্ড জয়ের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বদলার স্বাদ নেবে লাল-হলুদ? উত্তর মিলবে আর মাত্র তিন দিন পর।
