নাটক, নাটক ও নাটক। আফ্রিকান কাপ অফ নেশনের ফাইনালকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। কী হল সেনেগাল বনাম মরক্কোর ম্যাচে? ১-০ গোলে সেনেগাল চ্যাম্পিয়ন হল। আর যা হল, তার দীর্ঘ তালিকা পেশ করা যাক। গোল বাতিল, পেনাল্টি, তার প্রেক্ষিতে সেনেগালের দল তুলে নেওয়া, সাদিও মানের নেতৃত্বে আবার ফিরে আসা, পেনাল্টি মিস এবং শেষ পর্যন্ত টানা দ্বিতীয়বার সেনেগালের জয়। আর কী বাকি থাকে?
ঘরের মাঠ রাবাটে আফ্রিকা সেরা হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছিল মরক্কো। দলে ব্রাহমিন দিয়াজ, আশরাফ হাকিমির মতো তারকা। অ্যাটলাস লায়নরা গত ১৭ বছর ধরে নিজেদের দেশে অপরাজিত। একরাশ নাটকে সেই দৌড় থামল। গোটা ম্যাচ জুড়ে দু'পক্ষই গোলের সুযোগ পেয়েছিল, কাজে লাগাতে পারেনি। ইয়াসির বোনো ও এডুয়ার্ড মেন্ডি, দু'দলের গোলকিপারই প্রাচীর তুলে দাঁড়িয়েছিলেন।
ম্যাচের বয়স তখন ৯৩ মিনিট। কর্নার পায় সেনেগাল। সেখান থেকে হেডে গোল করেন সাদিও মানেরা। কিন্তু রেফারি ফাউলের অভিযোগে গোল বাতিল করে দেন। ঠিক তিন মিনিট পরের ঘটনা। ভার দেখে রেফারি পেনাল্টি দেন মরক্কোকে। কিন্তু সেনেগালের দাবি, পেনাল্টি অন্যায্য। বরং তাদের প্লেয়ারকেই আগে ফাউল করা হয়েছে। ম্যাচ যেহেতু তখন শেষের মুখে, তাই পেনাল্টিটা নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। একে গোল বাতিল, তারপর পেনাল্টি। প্রতিবাদ শুরু করে সেনেগাল। কোচ পাপে দিয়াউ দল তুলে নেন। সেনেগালের প্লেয়াররা ড্রেসিংরুমে ফিরেও যান। শুধু একজন বাদে। তিনি সাদিও মানে।
লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী ফুটবলার দলের প্লেয়ার মাঠে ফিরে আসতে বলেন। অধিনায়কের মতো সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। দল তুলে নিলে শুধু ম্যাচ হারবে না। শাস্তির খাঁড়া নেমে আসবে, দেশের নামও কলঙ্কিত হবে। সেনেগালের প্লেয়াররা ফিরে আসার পর ম্যাচ শুরু হয়। আর যে পেনাল্টি নিয়ে এত বিতর্ক, সেটা মিস করল মরক্কো। রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলার ব্রাহমিন পানেনকা মারতে গিয়ে সোজা সেনেগালের গোলকিপারের হাতে বল তুলে দেন। অবশেষে ৯০ মিনিটের প্রায় ২৫ মিনিট পর শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। আর অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতেই দুরন্ত শটে গোল করেন সেনেগালের পাপে গায়ে। ওই একটা গোলই ব্যবধান গড়ে দিল। যাবতীয় নাটক শেষে ১-০ গোলে জিতে ফের আফ্রিকা সেরা হল সেনেগাল।
