ডুরান্ড কাপে কলকাতা ডার্বিতে জয়ের পর কলকাতা লিগে একই দিনে মাঠে নামল ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। মোহনবাগান মাঠে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ (Indranil Khan)। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয় ক্লাবের তরফ থেকে। দু'দলই জুনিয়রদের মাঠে নামিয়েছিল। জয় পেয়েছে দু'দলই। তবে লাল-হলুদ বাহিনী যতটা সহজে জয় পেয়েছে, মোহনবাগান ততটা সহজে জেতেনি। চাকু মান্ডিরা পাঠচক্রের বিরুদ্ধে জিতল ৫-১ গোলে। সেখানে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়রা ইউনাইটেড কলকাতার বিরুদ্ধে জয় পেলেন ১-০ গোলে।
পাঠচক্রের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গল বেশ সহজেই জিতল। ৫ মিনিটে গোলের বন্যা শুরু। বিজয় মুর্মুর পাস থেকে প্রথম গোলটি করেন আকাশ হেমব্রম। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তা শোধ করে দেয় পাঠচক্র। ২১ মিনিটে ফের বিজয়ের অ্যাসিস্ট। জটলার মধ্যে থেকে দুর্দান্ত থ্রু বাড়ান তিনি। সেখান থেকে ব্যবধান বাড়ান ইস্টবেঙ্গলের উত্তম হাঁসদা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আবার উত্তমের গোল। ঘরের মাঠে প্রথমার্ধেই ৩-১ গোলে এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। ৬২ মিনিটে আবার আকাশ গোল করেন। ৮৯ মিনিটে ৫-১ করেন মহম্মদ বিলাল। লিগে চারে চার জয় হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের।
অন্যদিকে ইউনাইটেড কলকাতা খাতায়-কলমে যথেষ্ট শক্তিশালী দল। নারায়ণ দাস, জবি জাস্টিন, বিদ্যাসাগর সিংরা আছেন। মোহনবাগান ভুগল ফিনিশিংয়ের অভাবে। সুহেল আহমেদ ভাটের ফিটনেস ও ফর্ম দু'টো নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। কিয়ান প্রথম দলে ছিলেন না। প্রথমার্ধে একাধিকবার গোলের সুযোগ এসেছিল ইউনাইটেড কলকাতার কাছে। তবে সবুজ-মেরুনের ছন্নছাড়া দশাতেও আশার আলো সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁদিক থেকে উইংয়ে তাঁর গতি ও সক্রিয়তাই সম্পদ সবুজ-মেরুনের। ৪৩ মিনিটে তাঁর পাস থেকেই ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন সুহেল। দ্বিতীয়ার্ধে ইউনাইটেড কলকাতা অনায়াসে গোলশোধ করতে পারত। ৮০ মিনিটে পেনাল্টি মিস করেন একসময় ইস্টবেঙ্গলে খেলা বিদ্যাসাগর সিং। এরপর ৮৭ মিনিটে সায়নকে আটকাতে গিয়ে লাল কার্ড দেখেন অমিত টুডু। পরে মারামারিতে জড়িয়ে লাল কার্ড দেখেন জবি জাস্টিনও। আবার মোহনবাগানের গোলবাতিল থেকে সহকারী রেফারিকে কার্ড দেখানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। সব মিলিয়ে রেফারিং নিয়ে চরম অসন্তুষ্ট সবুজ-মেরুনের কোচ বাস্তব রায়।
এদিন লিগের ম্যাচ দেখতে মোহনবাগান মাঠে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানান ক্লাব সচিব সৃঞ্জয় বোস। পরে অমর একাদশের মূর্তির সামনেও যান ক্রীড়ামন্ত্রী। সবুজ-মেরুনের ট্রফি ক্যাবিনেট ঘুরে দেখার পর সভ্যদের মাঝে বসে খেলা দেখেন। ছিলেন উত্তর কলকাতার বিজেপি সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ। পরে ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, "মোহনবাগান আমাদের ভারতবাসীর কাছে গৌরবের ক্লাব। মোহনবাগান পেশাদারিভাবে বাংলার ফুটবলারদের বিশ্বদরবারে নিয়ে এসেছে। কাল মোহনবাগান দিবস। সমর্থকদের সুবিধার্থে কিছু বিষয় নিয়ে কথা হল।" সভাপতি দেবাশিস দত্ত ক্রীড়ামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান, পেপারলেস টিকিট ও যুবভারতীতে পানীয় জলের ব্যবস্থা করার জন্য। পাশাপাশি, এরপর যুবভারতীতে সমর্থকদের হেলমেট ও ছাতা রাখার জন্য ঠিকঠাক ব্যবস্থার জন্য আবেদন করা হয় ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে। সচিব সৃঞ্জয় বোস বলেন, "ক্রীড়ামন্ত্রী আমাদের সঙ্গেই আছেন। ওঁকে আমরা দরকারে পাব। এত কম সময়ে এত ব্যবস্থা করেছেন, সেই জন্য কৃতজ্ঞ। আগে একটা ব্যাপার ছিল, আমি সব নিয়ন্ত্রণ করব। সেটা ছাড়াটাও দরকারি।"
