shono
Advertisement
FIFA World Cup

নামে সোনা, কিন্তু সোনা নয়! বিশ্বকাপের তিন অমূল্য পুরস্কারের বিশেষত্ব কী?

দলগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্মানও ফুটবলারদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ব্যক্তিগত পুরস্কারের তালিকায় সবচেয়ে অমূল্য পুরস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম 'গোল্ডেন বুট', 'গোল্ডেন বল' এবং গোল্ডেন গ্লাভস। 
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 07:38 PM Jun 12, 2026Updated: 09:17 PM Jun 12, 2026

শুরু হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup)। ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এই প্রথমবার ৪৮ দেশের বিশ্বকাপ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আসর বসেছে তিন দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোয়। বহুকাঙ্ক্ষিত ট্রফি কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনই দলগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্মানও ফুটবলারদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ব্যক্তিগত পুরস্কারের তালিকায় সবচেয়ে অমূল্য পুরস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম 'গোল্ডেন বুট', 'গোল্ডেন বল' এবং 'গোল্ডেন গ্লাভস'। 

Advertisement

গোল্ডেন বুট। ছবি সংগৃহীত।

ফিফা বিশ্বকাপে যে ফুটবলার সবচেয়ে বেশি গোল করেন, তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় গোল্ডেন বুট। প্রতি চার বছর অন্তর বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকাররা এই পুরস্কার জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামেন। গোলের পর গোল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দেওয়া ফুটবলারদের জন্য এটি এক বিশেষ স্বীকৃতি। তাই বিশ্বকাপ চলাকালীন দলগত লড়াইয়ের পাশাপাশি গোল্ডেন বুটের দৌড়ও সমানভাবে আকর্ষণের মধ্যমণি হয়ে থাকে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ আসরের সেরা ফুটবলার পান গোল্ডেন বল। ফিফা টেকনিক্যাল কমিটির তৈরি করা শর্টলিস্ট থেকে মিডিয়া প্রতিনিধিদের ভোটের মাধ্যমে এই বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।

বিশ্বকাপের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এখনও পর্যন্ত কোনও ফুটবলার একাধিকবার গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি। ফলে প্রতিটি আসরেই নতুন কোনও তারকা এই সম্মানের দাবিদার হয়ে ওঠেন। অনেক সময় বিশ্বকাপের সেরা গোলদাতার পরিচয়ই একজন ফুটবলারের কেরিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন হয়ে থাকে। নাম 'গোল্ডেন বুট' হলেও এটি কিন্তু পুরোপুরি সোনা দিয়ে তৈরি নয়। বিভিন্ন ধাতুর সংমিশ্রণে তৈরি। এর মধ্যে পিতল অন্যতম। পরে এর উপর সোনালি প্রলেপ বা গোল্ড প্লেটিং করা হয়। সেই কারণেই ট্রফিটি দেখতে খাঁটি সোনার বুটের মতো লাগে। গোল্ডেন বুটের ওজন প্রায় ১ কেজি।

গোল্ডেন বল। ছবি সংগৃহীত।

১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ থেকে দেওয়া শুরু হওয়া গোল্ডেন বুটের বাজারমূল্য ফিফা কখনও প্রকাশ করেনি। ফলে প্রকৃত মূল্য নিয়ে কিছুটা রহস্য থেকেই গিয়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে। ফাইনালে হ্যাটট্রিক-সহ গোটা টুর্নামেন্টে তিনি ৮টি গোল করেছিলেন। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই সম্মান কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, কিলিয়ান এমবাপে, হ্যারি কেন, লাউতারো মার্টিনেজ, ভিনিসিয়াস জুনিয়র-সহ অনেক তারকা ফুটবলারের দিকে নজর থাকবে সমর্থকদের। শেষ পর্যন্ত কে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে সোনালি বুট নিজের করে নেন, তার উত্তর মিলবে আগামী ১৯ জুলাই।

গোল্ডেন গ্লাভস। ছবি সংগৃহীত।

অন্যদিকে, ফিফা বিশ্বকাপের গোল্ডেন বলও নিরেট সোনার তৈরি নয়। বরং ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য। যার উপর ১৮ ক্যারট সোনার প্রলেপ দেওয়া। তাই সোনার পরিমাণ খুবই সামান্য। এর বেশিরভাগ অংশই অন্য ধাতুর তৈরি। গোল্ডেন বল ট্রফির দাম নিয়েও ফিফা কোনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। একমাত্র ফুটবলার হিসাবে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি দু'বার গোল্ডেন বল জিতেছেন (২০১৪ এবং ২০২২ সাল)। একই সঙ্গে ফিফার আরও এক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ফিফার গোল্ডেন গ্লাভস। যা সেরা গোলকিপারকে দেওয়া হয়। ১৯৯৪ সালে এটি প্রথম চালু হয়। রাশিয়ার কিংবদন্তি গোলরক্ষক লেভ ইয়াশিনের সম্মানে এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়েছিল। এর নামও ছিল লেভ ইয়াশিনের অ্যাওয়ার্ড। ২০১০ সালে এর নাম বদলে 'গোল্ডেন গ্লাভস' হয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গোল্ডেন গ্লাভস জিতেছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। এই পুরস্কারেও নিরেট কোনও সোনা থাকে না। সাধারণত ব্রোঞ্জের তৈরি হয়। এর উপর সোনার জল করা থাকে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement