দুলাল দে: ভারতীয় ফুটবলের অচলাবস্থা কাটাতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট। ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে 'শর্ট অর্ডারে' শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, আগামী মরশুমে আইএসএল-সহ অন্যান্য পেশাদার টুর্নামেন্টগুলির আয়োজনের জন্য টেন্ডার ডাকতে পারবে AIFF। তবে সেই টেন্ডারের গোটা প্রক্রিয়ার নজরদারিতে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নাগেশ্বর রাও। ওই প্রাক্তন বিচারপতি চাইলে গোটা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নজরদারির জন্য পেশাদার সদস্যদের নিয়োগ করতে পারেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি এস নরসিমা ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে আদালত বান্ধব গোপাল শঙ্করনারায়ণন প্রস্তাব দেন, এআইএফএফের মার্কেটিং রাইটস নিয়ে গ্লোবাল টেন্ডার ডাকার জন্য বিচারপতি নাগেশ্বর রাও-য়ের নেতৃত্ব কমিটি গড়া হোক। এদিন আদালত জানিয়েছে, ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক ক্যালেন্ডার চালু রাখার স্বার্থে এআইএফএফই মার্কেটিং রাইটস নিয়ে গ্লোবাল টেন্ডার ডাকবে। তবে গোটা প্রক্রিয়ার নজরদারিতে থাকবে নাগেশ্বর রাও-য়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি। ওই কমিটিতে পেশাদারদের নিয়োগ করতে পারবেন বিচারপতি রাও। টেন্ডার নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হলে ফেডারেশনকে নিতে হবে বিচারপতি রাওয়ের কমিটির অনুমতি সাপেক্ষ। আদালতে এফএসডিএল এবং ফেডারেশন দুই পক্ষই জানিয়েছে, দ্রুত ফুটবল ক্যালেন্ডার চালু করতে এবং ভারতীয় ফুটবলকে সচল রাখতে পারস্পারিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবে তাঁরা,
এছাড়া ফেডারেশনের নির্বাচন এবং সংবিধান নিয়ে এদিন শর্ট অর্ডারে কোনওরকম নির্দেশ দেওয়া হয়নি। শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত রায়ের সময় সিদ্ধান্ত হবে। সাধারণ নিয়মে নির্বাচন হলে কল্যাণ চৌবের নেতৃত্বাধীন কমিটির কাজ চালানোর কথা। তবে নির্বাচন এবং সংবিধানের বিষয়টি এখনও বিচারাধীন।
দেশের স্পোর্টস বিল অনুসারে নতুন করে সংবিধান হলে, সেই সংবিধান অনুযায়ী ফের নতুন করে ফেডারেশনে নির্বাচন হবে না কি, ফেডারেশনের আগের কমিটিই থেকে যাবে? যেখানে নতুন সংবিধান অনুযায়ী কিছু রদবদল করা হবে। সব উত্তর পেতেই এদিন সবার দৃষ্টি ছিল সুপ্রিম কোর্টের দিকে। তবে এদিন নির্বাচন ও সংবিধান বিতর্ক এড়িয়ে আপাতত ফুটবল সচল করার দিকেই মন দিল শীর্ষ আদালত।
