যতই চিকিৎসা চলুক না কেন, ডায়বেটিস রোগীদের পক্ষে রোজের জীবনযাপন নেহাত সহজ হয় না। উপরন্তু যদি মানসিক অবসাদের (clinical depression) শিকার হন সেই ব্যক্তি, তবে প্রতিটি দিন আরও কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময়েই ডায়বেটিসের সঙ্গে যুঝতে গিয়ে গভীর অবসাদে ডুবে যায় মানুষ। তবে এ কথাও একইরকমভাবে সত্যি যে মানসিক অবসাদ বাড়লে, তা পরোক্ষে ব্লাড সুগারকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে ডায়বেটিসের চিকিৎসার পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে ডিপ্রেশনের দিকেও।
ডিপ্রেশন সাময়িক নয়। মাসের পর মাস, কোনও বিশেষ ঘটনা ছাড়াও এই হতাশা থেকে যায়।
মানসিক অবসাদ চিনবেন কী করে?
অনেকেই মনখারাপকে ডিপ্রেশনের নাম দিয়ে থাকেন ঠিকই। তবে এই দুই অবস্থা কিন্তু একেবারেই এক নয়। মন যতই খারাপ হোক না কেন, ডিপ্রেশনের সঙ্গে তার স্পষ্ট ফারাক রয়েছে।
- দুঃখ অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। জীবনের কোনও খারাপ ঘটনা বা হতাশাজনক পরিস্থিতির জন্যই তা হতে পারে। ডিপ্রেশন সাময়িক নয়। মাসের পর মাস, কোনও বিশেষ ঘটনা ছাড়াও এই হতাশা থেকে যায়।
- কোনও আনন্দের ঘটনার জেরে মনখারাপ কমে যায়। ডিপ্রেশন কমে না। আনন্দের ঘটনায় কিছুই এসে যায় না তাতে। এমনকী ডিপ্রেশনে আক্রান্ত মানুষ আনন্দের ঘটনায় শামিল হতেও পারে না।
- আবসাদগ্রস্ত মানুষের সব সময়েই নিজেকে মূল্যহীন মনে হয়। সে আগে যা করতে পছন্দ করত, তাও এখন নিরর্থক লাগে।
- মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। অনেক সময়েই সে একা করে নেয় নিজেকে।
- ঘুমাতে পারে না রাতের পর রাত। অথবা সর্বক্ষণ ঘুমিয়ে থাকে।
- খেতে চায় না, ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে। অথবা প্রয়োজনের তুলনায় এত বেশি খায় যে আচমকা ওজন বেড়ে যায়।
- সমস্ত অনুভূতি চলে গিয়ে স্থায়ী হয় কেবলমাত্র ক্লান্তি। কেবল মন নয়, শরীর চালানোর মতোও ক্ষমতা জোটে না যেন।
ডিপ্রেশনের কারণে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়।
ডিপ্রেশন কীভাবে ডায়াবেটিসকে প্রভাবিত করে?
- ডিপ্রেশনের কারণে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও বাড়তে পারে।
- ওষুধ নিয়মিত খাওয়ার আগ্রহ কমে যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
কী করা যেতে পারে এমন অবস্থায়?
ডিপ্রেশন কখনওই বাড়িতে বুঝিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ার নয়। কোথাও বেড়াতে গেলে বা ভালো খাবার খেলেও এর সুরাহা মিলবে না। তাই নিয়মিত কাউন্সেলিং ও সাইকোথেরাপি করাতে হবে। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ওষুধ খেতে হবে। ডায়বেটিসের চিকিৎসার পাশাপাশি মনোরোগ সারানোয় সচেষ্ট হতে হবে অতি অবশ্যই।
