বোডো/গ্লিমট। ফুটবল বিশ্বে খুব বেশি মানুষ এই ক্লাবের নামটির সঙ্গে পরিচিত নয়। কিন্তু এই মরশুমের পর নিশ্চয়ই মনে ছাপ রেখে যাবে নরওয়ের এই ক্লাব। ম্যাঞ্চেস্টার সিটি থেকে ইন্টার মিলান, ইউরোপের 'দৈত্যবধ' করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের (UEFA Champions League) শেষ ষোলোয় জায়গা করে নতুন রূপকথা লিখছে বোডো/গ্লিমট। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, গত বছরের নভেম্বরের পর থেকে ঘরোয়া লিগ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তাদের দাপট কমেনি।
নরওয়ের বোডোতে বর্তমান তাপমাত্র শূন্যের নিচে। বরফে ঢেকে গিয়েছে রাস্তাঘাট। সারা বছরে মাত্র কয়েকটি মাস নিয়মিত ফুটবল খেলার মতো আবহাওয়া থাকে। তার মধ্যেই ঘরোয়া লিগ শেষ করতে হয় নরওয়েকে। তাই ভাইকিংদের দেশের লিগ শেষ হয়ে গিয়েছে গত বছরের নভেম্বরে। তবে সেই লিগ, অর্থাৎ এলিটসেরিয়েনে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বোডো/গ্লিমট। তাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সরাসরি ছাড়পত্র পায়নি। প্লে অফে খেলে ইউরোপের যোগ্যতা অর্জন করে। কিন্তু সেখানে অন্যরূপে আবির্ভূত হয়েছে আর্লিং হালান্ডের দেশের ক্লাব।
বাজেট মাত্র ৫৭ মিলিয়ন ইউরো। কোনও বিখ্যাত প্লেয়ার নেই। কিন্তু জেনস পিটার হাউগা, প্যাট্রিক বার্গদের দাপটে ধরাশায়ী ইউরোপের নামীদামী ক্লাব। সবাইকে চমকে দিয়ে পেপ গুয়ার্দিওয়ালার ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকে হারিয়েছিল ৩-১ গোলে। কিন্তু তারপরের ম্যাচে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারাতে নড়েচড়ে বসে বিশ্বের ফুটবলভক্তরা। টানা দুই জয়ে প্লে অফের দরজা খুলে যায় তাদের জন্য। কিন্তু শেষ ষোলোয় ওঠার জন্য ইন্টার মিলানের বাধা টপকাতে হত। যারা গতবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রানার্স আপ। ফলে ইটালির ক্লাবকেই খাতায়-কলমে এগিয়ে রাখা হয়েছিল।
কিন্তু খেলা তো হয় মাঠে। সেখানে প্লে অফের প্রথম পর্বে বোডো/গ্লিমট ৩-১ গোলে হারায় লাউতারো মার্তিনেজদের। এবার ইটালিতে এসেও একই ছবি। ৬০ হাজার দর্শকাসনের সান সিরোকে স্তব্ধ করে ২-১ গোলে জেতে বোডো/গ্লিমট। তাদের হয়ে গোল করেন পিটার হাউগা ও হাকোন ইভজেন। শেষ ষোলোয় কে প্রতিপক্ষ হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে বরফে ঢাকা সুমেরুবৃত্ত থেকে ইউরোপের 'দৈত্যবধ'- নতুন স্বপ্ন দেখছে বোডো/গ্লিমট।
