ইস্টবেঙ্গল: ৪ (ইউসেফ ২, লালরিনডিকা, মিগুয়েল)
দিল্লি: ১ (অগাস্টিন)
আঘাত কখনও শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। শনিবারের ইস্টবেঙ্গলও (East Bengal) তেমন। লিগে শীর্ষ স্থান ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে নেমেছিল মশাল ব্রিগেড। কিন্তু যুবভারতীকে স্তব্ধ করে দিয়ে শুরুতেই গোল খেয়ে যায় অস্কার ব্রুজোর দল। তবে এই ঝাঁকুনিটাই যেন বদলে দিল ইস্টবেঙ্গলকে। শেষ পর্যন্ত স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে ৪-১ গোলে জিতে মাঠ ছাড়লেন ইউসেফ, মিগুয়েলরা।
এক-একটা করে মরশুম আর স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা। এভাবেই কেটে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের আগের আইএসএল সফরগুলো। এবার কি অন্য ছবি হবে? আইএসএলে জ্বলবে লাল-হলুদ মশাল? সেটার উত্তর তো সময়ই দেবে। তবে আইএসএল অভিযান এত ভালোভাবে কখনওই শুরু হয়নি ইস্টবেঙ্গলের। প্রথমবার জয় দিয়ে আইএসএল শুরু করা লাল-হলুদ বাহিনী দ্বিতীয় ম্যাচেও 'অনায়াস' জয় পেল।
ছবি অমিত মৌলিক।
লিগে শীর্ষ স্থান ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় নেমেছিলেন ব্রুজোর ছেলেরা। সমর্থকদের মধ্যে কৌতূহল ছিল, অ্যান্টন সোজবার্গ কি শনিবার স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচে স্কোয়াডে থাকবেন? নাহ। তিনি ছিলেন না। তবে এতে ইস্টবেঙ্গলের জয় আটকাল না। শুরুতে অবশ্য বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ৪ মিনিটের মাথায় বক্সের ভিতরে বল পেয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে গোল করে গেলেন অগাস্টিন। সেই মুহূর্তে সমর্থকদের মন দুরুদুরু করে উঠলেও তিন মিনিটের ব্যবধানে বদলে যাওয়া ইস্টবেঙ্গলকে দেখলেন তাঁরা। ৭ মিনিটে বিপিনের ফ্রিকিক থেকে বল ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন দিল্লির ডিফেন্ডাররা। বল চলে যায় এডমন্ড লালরিনডিকার কাছে। তাঁর জোরাল শট বিপক্ষ গোলকিপার বিশাল যাদবের হাত ফসকে গোলে ঢুকে যায়।
১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান ইউসেফ এজেজারি। ২৭ মিনিটে ফের গোল পেয়ে যেতে পারত লাল-হলুদ। মিগুয়েলের ক্রসে এজেজারির হেড চলে যায় গোলরক্ষকের দস্তানায়। ৪০ মিনিটে এজেজারিকে লক্ষ্য করে দুর্দান্ত থ্রু বল দেন মিগুয়েল। মাথা ঠান্ডা রেখে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। গত ম্যাচেও জোড়া গোল করেছিলেন। শনিবারও যেন তারই 'রিপিট টেলিকাস্ট'। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ইস্টবেঙ্গলকে গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হল ম্যাচের একেবারে শেষ পর্যন্ত। তবে আগ্রাসনের আধিক্য বেশি ছিল লাল-হলুদেরই। ৪৮ এবং ৪৯ মিনিটে নন্দকুমারের মিস কিংবা ৭৫ মিনিটে এজেজারি হ্যাটট্রিকের সুযোগ মিস না করলে আরও বড় ব্যবধানে জিততে পারত মশাল বাহিনী। যদিও ইনজুরি টাইমে (৯০+৩) মিনিটে দূরপাল্লার শটে স্কোর লাইন ৪-১ করে গেলেন মিগুয়েল।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিশেষ টিফো। ছবি: ফেসবুক।
আজ ছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সেই উপলক্ষে টিফোও নামে গ্যালারিতে। সেখানে লেখা ছিল, 'বাংলা ভাষার টানে থাকি লাল হলুদে জুড়ে, তোমায় ভালোবাসব জানি একুশ জন্ম পরে।' ভাষা দিবসে লাল-হলুদ সমর্থকদের এই আবেগ নজর কেড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের।
