সুপার কাপের সময়ের ঘটনা।
পুরো ভারতীয় একাদশ নিয়ে খেলে ল্যাজে গোবরে হয়ে সুপার কাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল চেন্নাইয়িন এফসি। একদা আইএসএল চ্যাম্পিয়নদের সুপার কাপে দেখে সত্যিই খারাপ লাগছিল। তখনও আইএসএল হবে কি না, ঠিক নেই। হলেও কবে হবে কেউ বুঝতেই পারছিলেন না। ফলে স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে কোনওমতে প্র্যাকটিস সেরে সুপার কাপে খেলতে চলে এসেছিলেন চেন্নাইয়িন কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডা। কিন্তু সোমবার যুবভারতীতে নতুন ফর্ম্যাটের আইএসএলে যে চেন্নাইয়িনের মুখোমুখি হতে চলেছে সের্জিও লোবেরার মোহনহবাগান (Mohun Bagan), এই চেন্নাই সুপার কাপের চেন্নাই নয়। প্রথম ম্যাচে মুম্বইয়ের কাছে আত্মঘাতী গেলে হেরে গেলেও এই চেন্নাই যথেষ্ট শক্তিশালী। ফলে কিছুটা সতর্ক হয়েই যুবভারতীতে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা বললেন, "একটা সময় মনে হয়েছিল, এই মরশুমের আইএসএল কেউই সেভাবে দল গড়বে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব দলই ভাল বিদেশি নিয়ে দল গড়ে চলে এসেছে। ফলে সোমবারের ম্যাচটা কিন্তু আমাদের জন্য যথেষ্ট কঠিন।"
শুধু ফর্ম্যাটেই নয়। এবারের আইএসএলে শুরু থেকেই লাল-হলুদের একটা ঝোড়ো হাওয়া বইছে। গ্যালারিতে কান পাতলে শুধু লাল-হলুদ তুবড়ির শব্দ। ইস্টবেঙ্গল দু'ম্যাচে সাত গোল করে কার্যত লিগ টেবিল কাঁপিয়ে দিয়েছে। উল্টোদিকে মোহনবাগান প্রথম ম্যাচে কেরালার বিরুদ্ধে জিতলেও সমর্থকদের মন পুরোপুরি ভরেনি। জয়ের চেয়েও যেন পারফরম্যান্সের খাঁজগুলো বেশি চোখে পড়ছে। লোবেরা অবশ্য বাইরের চাপে কান দিতে নারাজ। তাঁর স্পষ্ট কথা- "আগে নিজেদের খেলাটা উন্নত করতে হবে। কেরালা একভাবে খেলেছিল, চেন্নাই অন্য সিস্টেমে খেলবে। আমরা যদি নিজেদের খেলাটা ঠিক করতে না পারি, তবে প্রতিপক্ষ কে, তাতে কিছু যায় আসে না।"
অনেকে বলছেন, পুরো দল নিয়ে মোহনবাগান যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্র্যাকটিস করে তৈরি হয়েছে, অন্য দলগুলির কাছে সেই সুযোগটাই তো ছিল না। লোবেরা অবশ্য এই ধরনের আলোচনাকে অজুহাত হিসেবেই দেখাতে চান। "এই পর্যায়ে কোনও অজুহাত দেওয়ার অর্থ হয় না। ওদের অভিজ্ঞ বিদেশি ফুটবলার আছে, ভারতীয়রাও খুব ভালো।" ম্যাচ জেতার দিকে যেমন নজর দিতে চাইছেন, সেরকম পারফরম্যান্সেও উন্নতি ঘটাতে চান লোবেরা। "জিতেছি বলে প্রথম ম্যাচে সবকিছু নিখুঁত হয়েছে, এমনটা নয়। দ্বিতীয় ম্যাচে আরও উন্নতি করতে হবে। তবে সমর্থকদেরও মাথায় রাখতে হবে, যে কোনও প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচ সবসময়ই কঠিন হয়। প্রস্তুতি যতদিন ধরেই নিই না কেন, ম্যাচ প্রেসার আলাদা ব্যাপার।"
মোহনবাগান দলের গভীরতা এতটাই বেশি যে, প্রথম একাদশ ঠিক করতে গিয়ে লোবেরাকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে। সমস্যাটার মধ্যে একটা বেশ আনন্দদায়ক ব্যাপার আছে। অন্তত হাতে ভাল ফুটবলার না থাকার আতঙ্কর থেকে অনেকটাই ভাল। বলছিলেন, "আমার দলে ২২ জনেরও বেশি খেলোয়াড় আছে, যারা প্রথম একাদশে নামার যোগ্য। এটা কোচ হিসেবে সত্যিই দারুণ একটা সমস্যা। শুধু প্রথম ১১ নয়, শেষ ১৫-২০ মিনিটে যারা মাঠে নামবে, তারাও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধরণ করে দিতে পারে। তবে মাথায় রাখতে হবে, আগের তুলনায় এখন ম্যাচ কম। প্রতিযোগিতা কঠিন। ফলে প্রতিটি ম্যাচ এখন ফাইনালের মতো।"
আজ আইএসএলে
মোহনবাগান বনাম চেন্নাইয়িন
সন্ধে ৭.৩০
যুবভারতী
