চলতি বছর জানুয়ারিতে আনোয়ার আলি ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল মোহনবাগান। মাসের পর মাস বিষয়টি ঝুলেই রয়েছে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। বিষয়টি ফিফা পর্যন্তও গড়ায়। এমনকী বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার তরফে এআইএফএফ-কে দ্রুত মিটিয়ে নিতে বললেও কোনও অগ্রগতি হয়নি। অবশেষে ফেডারেশনের গড়িমসিতে ‘বিরক্ত’ হয়ে প্রায় আড়াই বছর পর ক্রীড়া আদালত বা ক্যাসের দ্বারস্থ হয়েছিল মোহনবাগান। এবার ক্যাসের তরফে সব পক্ষের যুক্তি শুনে চূড়ান্ত দিন ধার্য করা হয়েছে।
দু’মরশুম আগে ইস্টবেঙ্গল থেকে মোহনবাগানে আসেন আনোয়ার। যা নিয়ে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ আনে সবুজ-মেরুন শিবির। দীর্ঘদিন ফেডারেশনের আপিল কমিটিতে মামলা ঝুলে। যা নিয়ে সবপক্ষই অসন্তুষ্ট। গত বছরের নভেম্বরে এই বিষয় নিয়ে ফিফা ও এএফসিকে চিঠি পাঠায় মোহনবাগান। যার উত্তরে ফিফার তরফ থেকেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
কিন্তু তারপরও ফেডারেশনের তরফে মামলায় কোনও অগ্রগতি হয়নি। এই দীর্ঘ সময় মামলার কোনওরকম শুনানিই করেনি ফেডারেশনের আপিল কমিটি। এমনকী আনোয়ার নিজেও ফেডারেশনকে চিঠি লিখে জানান যে, অহেতুক ঢিলেমির জন্য তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। অথচ অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। সব মিলিয়ে বহু দিন মামলা ঝুলে। এই পরিস্থিতিতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল মোহনবাগান। গোটা বিষয়টা নিয়ে ক্যাসের দ্বারস্থ হয়েছিল সবুজ-মেরুন শিবির। সেই আপিলে অবশেষে সাড়া দিল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত।
প্রশ্ন হল, কবে হবে আনোয়ার আলি ইস্যুর ভাগ্য নির্ধারণ? উত্তর হল ১৮ সেপ্টেম্বর। সেদিনই জানা যাবে আনোয়ার ইস্যুর গতিবিধি। এই মুহূর্তে আনোয়ার আলি ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলছেন। চুক্তিভঙ্গের ইস্যুতে আনোয়ারকে চার মাসের নির্বাসনের শাস্তি দিয়েছিল প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি। পাশাপাশি দিল্লি এফসি এবং ইস্টবেঙ্গলকে দু’টি ট্রান্সফার উইন্ডো ব্যান করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আদালতে গিয়েছিলেন আনোয়াররা। আদালতের নির্দেশে বিষয়টি নিয়ে ফের শুনানি শুরু করে ফেডারেশেনের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি। তবে শুনানি পিছিয়ে যাওয়া ছাড়া আর এই বিষয়ে কোনও অগ্রগতিই হয়নি। এখন সকলের নজর ১৮ সেপ্টেম্বরের দিকে।
