shono
Advertisement
AI in Healthcare

এআই-তে ভরসা বাড়ছে, তবু কেন ২০৩০-এর আগেই পেশা ছাড়তে চান ৬৯% চিকিৎসক?

এআই-এর ভবিষ্যৎ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎও।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 03:11 PM Jul 23, 2026Updated: 04:14 PM Jul 23, 2026

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এখন আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়, চিকিৎসকদের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গী। প্রেসক্রিপশন লেখা থেকে রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি তৈরি থেকে কাজের গতি বাড়ানো, সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে এআই-এর ব্যবহার। ভারতে প্রায় অর্ধেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির উপর নির্ভর করতে শুরু করেছেন।

Advertisement

কিন্তু এই ছবিরই অন্য পাশে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর সংকট। প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে চিকিৎসকদের মানসিক চাপ, কর্মক্ষেত্রের ক্লান্তি এবং অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতি এমন যে, ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৭ জন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী আশঙ্কা করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যেই তাঁরা পেশা ছেড়ে দিতে পারেন!

'ক্লিনিশিয়ান অফ দ্য ফিউচার ২০২৬' শীর্ষক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। সমীক্ষা বলছে, বর্তমানে ভারতে ৪৮ শতাংশ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তাঁদের কাজে এআই ব্যবহার করছেন। গত বছর এই হার ছিল ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে চিকিৎসাক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

কেন এত হতাশা? ছবি: সংগৃহীত

তবে প্রযুক্তির প্রসার যত দ্রুত হয়েছে, সেই হারে বাড়েনি চিকিৎসকদের প্রস্তুতি। মাত্র ৪৫ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী মনে করেন, তাঁরা এআই ব্যবহারের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ভালো মানের এআই শিক্ষা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আরও কম, মাত্র ৩২ শতাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র চিকিৎসকদের মধ্যেই। মাত্র ১৮ শতাংশ চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁরা এআই ব্যবহারের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তুলনায় ৪৬ শতাংশ নার্স মনে করেন, তাঁদের প্রশিক্ষণ পর্যাপ্ত। ফলে এআই-কে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের এক বড় অংশ এখনও পিছিয়ে।

তবে এআই নিয়ে আস্থার অভাব নেই। ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর বিশ্বাস, এআই রোগীর চিকিৎসার মান আরও উন্নত করতে পারে। ৫০ শতাংশের মতে, এআই ইতিমধ্যেই তাঁদের কাজকে আরও কার্যকর করে তুলেছে। বর্তমানে এআই ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ স্বাস্থ্যক্ষেত্রের জন্য তৈরি বিশেষ এআই টুল ব্যবহার করছেন, আর ৫৬ শতাংশ সাধারণ এআই প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে নথিপত্র তৈরি, তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ সামলাচ্ছেন।

চিকিৎসায় বাড়ছে এআই-এর গুরুত্ব। ছবি: সংগৃহীত

আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে এআই-এর ভূমিকা আরও বাড়বে বলেও মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রায় ৮০ শতাংশ বিশ্বাস করেন, এআই চিকিৎসকের বিকল্প হবে না, বরং একজন দক্ষ সহকারী হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে চিকিৎসার মান যেমন বাড়বে, তেমনই চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্কও আরও উন্নত হবে বলে তাঁদের আশা।

তবে পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনও বড় বাধা। মাত্র ৪১ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী মনে করেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে এআই-সহ প্রয়োজনীয় ডিজিটাল প্রযুক্তির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে এই হার নেমে এসেছে ৩০ শতাংশে, যদিও ৫১ শতাংশ নার্স পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সহায়তার কথা জানিয়েছেন।

এআই কখনওই চিকিৎসকের বিকল্প নয়। ছবি: সংগৃহীত

এছাড়া ৪০ শতাংশ মনে করেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে এআই-এর নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন ও তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে। এআই-এর উপর উচ্চমাত্রার আস্থা প্রকাশ করেছেন ৩৫ শতাংশ, আর ৫৭ শতাংশ মাঝারি মাত্রার আস্থা রাখেন। অর্থাৎ, প্রযুক্তির সম্ভাবনা স্বীকার করলেও চিকিৎসকদের মতে, রোগীর চিকিৎসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মানুষের অভিজ্ঞতা ও বিচারবোধের বিকল্প এখনও এআই নয়।

সব মিলিয়ে, সমীক্ষায় উঠে এসেছে দ্বিমুখী বাস্তবতার এক ছবি। একদিকে এআই চিকিৎসকদের কাজকে দ্রুত, সহজ ও আরও দক্ষ করে তুলছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত পরিকাঠামো এবং মানসিক চাপ কমানোর ব্যবস্থা না হলে প্রযুক্তির এই অগ্রগতি চিকিৎসকদের পেশাগত সংকট দূর করতে পারবে না। এআই-এর ভবিষ্যৎ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎও।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement