রেড কার্পেটে ঝলমলে উপস্থিতির আগে বলিউড তারকা আলিয়া ভাটের ঝকঝকে ত্বকের রহস্য কী? সম্প্রতি সেই সৌন্দর্য-রহস্যই সামনে এনেছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, রেড কার্পেটের আগে তিনি ভরসা রাখেন লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ, ভালো ঘুম, শরীরচর্চা আর আইস ফেস ডিপের উপর। আর তারপর থেকেই এই বিশেষ ম্যাসাজ ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।
সোশাল মিডিয়ায় কেউ একে বলছেন ডিটক্স থেরাপি, কেউ আবার ফেস স্লিমিং ট্রিক। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজের কিছু বাস্তব উপকারিতা থাকলেও এটিকে ম্যাজিক সমাধান ভাবা ঠিক নয়।
আলিয়া ভাট। ছবি: সংগৃহীত
কী এই লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ?
আমাদের শরীরে লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবহন ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে, যা অতিরিক্ত তরল, ক্ষতিকর টক্সিন ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করতে সাহায্য করে। এই সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতেই করা হয় লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ।
এটি সাধারণ ম্যাসাজের মতো নয়। এখানে জোরে চাপ প্রয়োগ করা হয় না। বরং খুব হালকা, ধীর এবং ছন্দময় হাতের মুভমেন্টের মাধ্যমে শরীরের লিম্ফ ফ্লুইডের প্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ফোলাভাব কমতে পারে, শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত জল বেরনো সহজ হয় এবং সাময়িকভাবে মুখ বা শরীরে ফোলাভাব কমে।
কীভাবে করা হয়?
এই ম্যাসাজ সাধারণত প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টরাই করেন। কারণ লিম্ফ নালিগুলি ত্বকের একেবারে কাছাকাছি থাকে। প্রথমে ঘাড়, কলার বোন, বগল বা কুঁচকির আশপাশের লিম্ফ নোডে হালকা চাপ দিয়ে ড্রেনেজের পথ খুলে দেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে তরল যাতে সেই নোডের দিকে যায়, তার ব্যবস্থা করা হয়। এই থেরাপিতে সাধারণত থাকে-
- হাতের হালকা মুভমেন্ট
- খুব আস্তে সুইপিং স্ট্রোক
- পাম্পিং টেকনিক
- খুব হালকা ও ছন্দময় চাপ
একটি সেশন সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। অনেকেই আবার মুখের ফোলাভাব কমাতে জেড রোলার ব্যবহার করে ফেসিয়াল লিম্ফ্যাটিক ম্যাসাজও করেন।
লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ। ছবি: সংগৃহীত
সত্যিই কি উপকার মেলে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে করলে এই ম্যাসাজ কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। যেমন-
- শরীরের ফোলাভাব কমানো
- জল জমার সমস্যা হ্রাস
- মুখের ফোলাভাব সাময়িক কমানো
- রক্তসঞ্চালন ভালো করা
- শরীরকে রিল্যাক্স অনুভব করানো
- কসমেটিক সার্জারির পর রিকভারি সাপোর্ট
- লিম্ফেডিমার উপসর্গ কিছুটা কমানো
অনেকেই মনে করেন ম্যাসাজের পরে শরীর হয় হালকা বা কমে ফোলাভাব। তবে সৌন্দর্য বা ওজন কমানোর যে দাবি সোশাল মিডিয়ায় করা হচ্ছে, তার পক্ষে এখনও যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
‘ডিটক্স’ দাবি কতটা সত্যি?
এই ম্যাসাজ নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রচার হয় ডিটক্স শব্দটি ঘিরে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, শরীর থেকে টক্সিন বের করার মূল কাজ করে লিভার ও কিডনি। লিম্ফ্যাটিক ম্যাসাজ সেই প্রক্রিয়াকে কিছুটা সহায়তা করতে পারে ঠিকই, কিন্তু এটি কোনও ম্যাজিক ডিটক্স থেরাপি নয়।
তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একে সৌন্দর্য বা স্বাস্থ্য সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান না ভেবে, বরং একটি সহায়ক ওয়েলনেস থেরাপি হিসেবেই দেখা উচিত।
সবার জন্য নয়। ছবি: সংগৃহীত
কারা এড়িয়ে চলবেন?
সব মানুষের জন্য এই ম্যাসাজ নিরাপদ নয়। যাঁদের শরীরে সংক্রমণ রয়েছে, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা, হার্ট ফেইলিওর, কিডনির অসুখ বা কিছু বিশেষ ধরনের ক্যানসার আছে, তাঁদের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। গর্ভবতী নারী বা সদ্য অস্ত্রোপচার হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ সাময়িক আরাম দিতে পারে, ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং শরীর কিছুটা সতেজভাব অনুভব করাতে পারে। কিন্তু স্থায়ী ওজন কমানো বা শরীরকে পুরোপুরি ডিটক্স করার নিশ্চয়তা এই থেরাপি দেয় না।
ভালো ঘুম, পর্যাপ্ত জলপান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলেই মনে করাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
