চিনির নেশা সর্বনাশা! হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড ছাড়াও একাধিক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের গ্যাসট্রোএন্টেরোলজিস্ট জানাচ্ছেন, মাদকদ্রব্যের চাইতেও বেশি নেশা হতে পারে চিনি থেকে! এ ঘটনা জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। অজান্তেই চিনির প্রতি আশক্ত হয়ে পড়ি আমরা। বারবার মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার অজুহাত খুঁজতে থাকি। আর এতেই ঘনায় বিপদ। শরীরের মেদ ঝরাতে চাইলে ব্যায়াম অথবা মর্নিং ওয়াকেরও আগে প্রয়োজন চিনি বাদ দেওয়া— জানাচ্ছেন স্বাস্থ্যবিদরা।
চিকিৎসকেরা বলছেন, এ ধরনের খাবার দীর্ঘদিন খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার ও হৃদপিণ্ডের নানা রোগ দেখা যায়। হতে পারে ওবেসিটিও। স্বাস্থ্যবিদদের মতে, এমন হওয়া থেকে আটকাতে চাইলে নেওয়া যেতে পারে ১৪ দিনের ‘সুগার-ফ্রি’ চ্যালেঞ্জ (sugar-free challenge)। মাত্র ১৪ দিন চিনির থেকে দূরে থাকলেই চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসে শরীরে।
চিনি কেবল বাদ দিলেই হবে না, তার বদলে ডায়েটে রাখতে হবে ন্যাচারাল সুগার
কেবল মিষ্টি অথবা কোল্ড ড্রিঙ্কস নয়, রোজের নানা খাবারেই চিনি থাকে। সুগার-ফ্রি ডায়েট মানতে গেলে, খেয়াল পড়ে সেই কথা। ফ্রুট জুস, পানীয় সোডা, সস, পাউরুটি, কর্ণ সিরাপ, চকোলেট, প্যাকেটজাত টক দই ও সুপ পাউডার— কী নেই তার মধ্যে! ফলে চাইলেই তা রোজকার খাবার তালিকা থেকে একেবারে বাদ দেওয়া যায় না।
তাছাড়া সুগার-ফ্রি ডায়েট মানার প্রতিক্রিয়া বলপূর্বক নেশামুক্তির মতোই! প্রথম তিনদিন বারবার মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছে হবে। না পেলে, বিরক্তি আসবে। মাথা যন্ত্রণা করতে পারে। সবার ওপর রাগ হবে, আচমকা মনখারাপও হতে পারে। এমনকী কাজে মন লাগানো যাবে না কিছুতেই।
চিনি কেবল বাদ দিলেই হবে না, তার বদলে ডায়েটে রাখতে হবে ন্যাচারাল সুগার। যেমন, বিভিন্ন ফল, বাদাম, খেজুর। সপ্তম দিন নাগাদ সুগার ক্রেভিং কমবে। শরীর চিনির বদলে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার থেকে এনার্জি গ্রহণে অভ্যস্ত হবে। এ সময়েই কিন্তু শরীরের ফোলাভাবও কমবে। দুপুরে ঘুমাতে গেলে হয়তো আগের মতো আর গাঢ় ঘুম আসবে না।
কঠিন নয়, চাইলেই জিতে যাওয়া যায় চিনির বিরুদ্ধে এই লড়াই!
বারো-তেরো নম্বর দিনে খেয়াল করলে বুঝবেন, শরীর আগের চাইতে অনেক ঝরঝরে লাগছে। ভুঁড়ি কমেছে, ব্লাড সুগারও যে নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তা জানা যাবে রক্ত পরীক্ষা করলেই। যে সুগার ক্রেভিং এতকাল বারবার মিষ্টি খেতে বাধ্য করছিল, তাও কমবে আপনা থেকেই। সময়মতো খিদে পাবে, হজমও হবে। রাতের ঘুম আগের চাইতে গভীর হবে। মানসিক অশান্তিও কমবে আগের তুলনায়।
কঠিন নয়, চাইলেই জিতে যাওয়া যায় চিনির বিরুদ্ধে এই লড়াই! চেষ্টা করেই দেখবেন নাকি, চোদ্দ দিনের সুগার-ফ্রি চ্যালেঞ্জ?
