পঞ্চাশের শরীরে আঠারোর লাবণ্য। যে অস্ত্রোপচার করেছেন বিপাশা বসু-রাখি সাওয়ান্ত, তা এবার মধ্যবিত্ত নারীর নাগালে। বঙ্গে সরকারি হাসপাতালেও ব্রেস্ট লিফটিং সার্জারি। এসএসকেএম হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. অরিন্দম সরকার জানিয়েছেন, এই অপারেশনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে। চিকিৎসকের বক্তব্য, “একাধিক কারণে মহিলারা আসেন এই ধরনের ব্রেস্ট লিফটিং সার্জারি করতে। বংশগত কারণে অনেকের অল্পবয়স থেকেই পৃথুলা স্তন। কারও আবার বয়সের কারণে ত্বকের কোলাজেন কমে যায়। ফলে স্তন ঝুলে পড়ে। গর্ভাবস্থায় স্তনের আকার পরিবর্তন হওয়ার কারণে সন্তান হওয়ার পরেও অনেক মহিলার স্তনের আকার নষ্ট হয়ে যায়।"
স্তনের আকার ঠিক করতে এবার তাঁরাও আসছেন সরকারি হাসপাতালে। রুপোলি দুনিয়ার নায়িকাদের স্তনের অস্ত্রোপচার করানোর ঘটনা আখছার। চিকিৎসকরা খুশি মধ্যবিত্ত ঘরের নারীরাও সংকোচ কাটিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে আসায়। আগের থেকে কতটা সহজলভ্য হয়েছে এহেন অস্ত্রোপচার? ডা. অরিন্দম সরকারের কথায়, "এখন বেসরকারি ক্ষেত্রেও লাখ দেড়েক টাকা খরচ করলেই ব্রেস্ট লিফটিং সার্জারি করা যাচ্ছে। দু'দশক আগে এই সুবিধা ছিল না।"
আকারও বদলে দিচ্ছে ব্রেস্ট লিফট উইথ রিডাকশন সার্জারি। প্লাস্টিক সার্জনরা জানান, স্তনের কিছু নির্দিষ্ট মাপ আছে। সেটাকেই 'রেফারেন্স' ধরে এগোনো হয়। কী কী ধাপ রয়েছে
অস্ত্রোপচারে? ডা. অরিন্দম সরকারের কথায়, "স্তনবৃন্তের চারপাশে খয়েরি আবরণকে অ্যারিওলা বলা হয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তা আকৃতিভ্রষ্ট হয়। গর্ভবতী মায়েদের স্ট্রেচিং-এর জন্য অ্যারিওলার সাইজটা বড় হয়ে যায়। অস্ত্রোপচারে সেই আকারটা ছোট করে দেওয়া হয়।" উলটোটাও সম্ভব। যাঁরা খুব বড় স্তন নিয়ে আসেন। তাঁদেরটা ছোট করে দেওয়া হয়। চিকিৎসা পরিভাষায় স্তন তুলে ধরার এই অস্ত্রোপচারকে বলা হয় ম্যাসটোপেকসি। অতিরিক্ত চামড়া কেটে বাদ দেওয়া হয়। স্তনের টিস্যুকে নতুনভাবে আকৃতি দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার নির্ঝঞ্ঝাট। যেদিন অস্ত্রোপচার হয় তার পরের দিনই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় রোগীকে। তিনি জানান, “দু'থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে স্তনকে চৌকস করতে। আর পাঁচটা অস্ত্রোপচারের রিকভারি পিরিয়ড যেমন, ব্রেস্ট লিফটিংয়ের ক্ষেত্রেও তাই।”
