সদ্যোজাতের অসুস্থতা চট করে বোঝা মুশকিল। সাধারণ জ্বর হোক বা অন্য যেকোনও সমস্যা, চিকিৎসক ছাড়া তা বুঝে নেওয়া সম্ভব নয়। সম্প্রতি শিশুর হৃদযন্ত্রের গঠনগত ত্রুটি বা 'কনজেনিটাল হার্ট ডিফেক্ট' (CHD) এক দুশ্চিন্তার বিষয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র পরিসংখ্যন অনুযায়ী, প্রতি ১০০০ জন শিশুর মধ্যে বর্তমানে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্মাচ্ছে। সঠিক সময়ে লক্ষণ চিনতে না পারলে এই সমস্যা প্রাণঘাতী হতে পারে। কোন কোন উপসর্গ দেখে আগেভাগে সতর্ক হবেন বাবা-মায়েরা?
ফাইল ছবি
কোন লক্ষণে বুঝবেন?
১) চিকিৎসকদের মতে, জন্মের পর থেকেই শিশুর শরীরে বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দেয় যা হৃদযন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিতবাহী। এর মধ্যে অন্যতম হল 'সায়ানোসিস'। যদি শিশুর ঠোঁট, জিভ বা নখের ডগা নীলচে হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি হচ্ছে। এটি হৃদরোগের একটি অত্যন্ত গুরুতর লক্ষণ।
২) শিশুর খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসের দিকেও কড়া নজর রাখতে হবে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জানাচ্ছে, দুধ খাওয়ার সময় যদি শিশু ঘনঘন হাঁপিয়ে ওঠে, কপালে ঘাম দেখা দেয় বা খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তবে তা স্বাভাবিক নয়। হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে শরীর খাওয়ার মতো পরিশ্রমের কাজটুকু করার শক্তি জোগাতে পারে না। এর ফলে শিশুর ওজন বাড়ে না, শারীরিক বৃদ্ধিও থমকে যায়।
৩) শ্বাসপ্রশ্বাসের গতির ওপর নজর রাখা জরুরি। সিডিসি (CDC)-র তথ্য অনুযায়ী, অস্বাভাবিক দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া জন্মগত হৃদত্রুটির সাধারণ লক্ষণ। এছাড়া, চিকিৎসকের পরীক্ষায় যদি শিশুর হৃদস্পন্দনে বিশেষ ধরনের শব্দ বা 'হার্ট মার্মার' ধরা পড়ে, তবে অতি দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সব মার্মার বিপজ্জনক না হলেও, ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
ফাইল ছবি
৪) বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সামান্য অস্বাভাবিক ঘাম বা অস্থিরতা দেখলে দেরি করবেন না। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে দ্রুত রোগ নির্ণয় হলে শিশুর হৃদযন্ত্রের জটিল অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব। মা-বাবার সামান্য সচেতনতাই পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে।
