টেনিস কোর্ট থেকে অবসর নিয়েছেন তিন বছর আগে। তবে গ্ল্যামার আর ফিটনেসে বিন্দুমাত্র মরচে পড়তে দেননি সানিয়া মির্জা। দুই দশকের দীর্ঘ খেলোয়াড় জীবন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরের পর অবসাদ নয়, বরং আরও ঝকঝকে হয়ে ধরা দিচ্ছেন হায়দরাবাদি সুন্দরী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ডায়েট চার্ট থেকে শুরু করে স্কিনকেয়ার রুটিন— সবটাই খোলাখুলি ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। ফিটনেস প্রেমীদের জন্য যা রীতিমতো অবাক করার মতো।
ফাইল ছবি
সানিয়ার দিন শুরু হয় কোনও ভারী খাবার দিয়ে নয়, বরং একটি বিশেষ 'ওয়েলনেস শট' দিয়ে। তাতে থাকে হলুদ, মধু, লেবু, আদা এবং কালোজিরা। খেতে খুব একটা সুস্বাদু না হলেও শরীরকে টক্সিনমুক্ত রাখতে এটি দারুণ কার্যকর। এরপর তিনি খান ভেজানো চিয়া সিড এবং কফি। জিম সেশনের আগে এই লিকুইড ডায়েটই তাঁর শক্তির উৎস।
ফাইল ছবি
খেলোয়াড় জীবনের সঙ্গে বর্তমানের ডায়েটে বড়সড় বদল এনেছেন সানিয়া। আগে কোর্টে লড়াই করার জন্য প্রচুর কার্বোহাইড্রেট লাগত। কিন্তু এখন তাঁর শারীরিক কসরত আগের তুলনায় ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। তাই এখন তিনি পুরোপুরি 'প্রোটিন হেভি' ডায়েটে বিশ্বাসী। সকালে ৩-৪টি ডিমের সাদা অংশ এবং দুপুরের খাবারেও পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকে। ইডলি বা ধোসার মতো কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার এখন তিনি এড়িয়েই চলেন।
ফিটনেসের জন্য সানিয়া প্রতিদিন অন্তত ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার হাঁটেন বা দৌড়ান। জিমে নিয়ম করে করেন ওয়েট ট্রেনিং। তবে সময়ের অভাবে আপাতত পিলাটেস বন্ধ রেখেছেন।
ফাইল ছবি
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হল সানিয়ার স্কিনকেয়ার। ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে তিনি জনপ্রিয় ১০ ধাপের কোরিয়ান রুটিন মেনে চলেন। সকালে ও রাতে আলাদা আলাদা করে এই ২০ ধাপের পরিচর্যা চলে তাঁর। ক্লিনজিং থেকে সানস্ক্রিন— কোনওটাতেই ফাঁকি দেন না তিনি। এর পাশাপাশি গত এক বছর ধরে রেড-লাইট থেরাপি নিচ্ছেন তিনি। প্রতি দুই দিন অন্তর আধ ঘণ্টা এই থেরাপি তাঁর ত্বক ও চুলকে পুনরুজ্জীবিত করে। সানিয়ার এই রুটিন প্রমাণ করে দেয়, অবসর মানেই থেমে যাওয়া নয়, বরং নিজেকে নতুন করে চেনা।
