একঢাল ঘন চুল কার না পছন্দ! কিন্তু সেই সাধ পূরণ করতে গিয়ে অজান্তেই শরীরে বিষ ঢোকাচ্ছেন না তো? সম্প্রতি এক গবেষণায় হেয়ার এক্সটেনশন নিয়ে উঠে এসেছে চমকে দেওয়া তথ্য। কৃত্রিমভাবে চুলের দৈর্ঘ্য বা ঘনত্ব বাড়াতে যে সব সামগ্রী ব্যবহার করা হয়, তাতে মিশে রয়েছে শ'য়ে শ'য়ে বিষাক্ত রাসায়নিক। যা থেকে ক্যানসার বা বন্ধ্যাত্বের মতো জটিল অসুখের ঝুঁকি বাড়ছে বলে দাবি চিকিৎসকদের।
ফাইল ছবি
আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির একটি জার্নালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৪৩টি বিভিন্ন ধরনের হেয়ার এক্সটেনশন পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল সিন্থেটিক চুল, মানুষের আসল চুল এবং চোখের পাতার কৃত্রিম রোমও। গবেষণায় মোট ৯০০টির বেশি রাসায়নিকের উপস্থিতি মিলেছে। যার মধ্যে ১৬৯টি রাসায়নিক অত্যন্ত ক্ষতিকারক। তালিকায় রয়েছে ফিনাইল, কীটনাশক এবং আগুনের হাত থেকে চুলকে বাঁচাতে ব্যবহৃত 'ফ্লেম রিটার্ডেন্ট'-এর মতো উপাদান।
গবেষকদের দাবি, এই রাসায়নিকগুলি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। নষ্ট করতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকদের মতে, এর মধ্যে অন্তত ১২টি উপাদান সরাসরি ক্যানসার এবং প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করার জন্য দায়ী। মূলত চুলকে চকচকে করতে, জল নিরোধক করতে বা রং টেকসই করতে এই বিষাক্ত প্রলেপ ব্যবহার করা হয়।
ফাইল ছবি
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, গরম যন্ত্র দিয়ে চুল স্টাইল করার সময় এই রাসায়নিকগুলি গ্যাস হয়ে বাতাসে মেশে। সেই ধোঁয়া চোখ, নাক এবং গলা জ্বালার কারণ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ফলে লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। অথচ বেশিরভাগ পণ্যের প্যাকেটে এই উপাদানগুলোর নাম পর্যন্ত লেখা থাকে না।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, একদম ঝুঁকিহীন এক্সটেনশন মেলা ভার। তবে কিছুটা সতর্কতা জরুরি। খুব চড়া তাপে স্টাইল করা এড়িয়ে চলতে হবে। কোনও সামগ্রী ব্যবহারের আগে তার উপাদানের তালিকা ভালো করে যাচাই করা দরকার। বিজ্ঞাপনী চমকে না ভুলে স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
