shono
Advertisement
H1N1 Virus

এইচ১এন১-এর বাড়বাড়ন্তে বাড়ছে চিন্তা, ফ্লু ও নিউমোনিয়ার টিকা কাদের জন্য জরুরি?

এইচ১এন১ বাড়ছে বলে কি সবাইকে টিকা নিতে হবে? ফ্লু-এর টিকা আর নিউমোনিয়ার টিকা কি একই? কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন?
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 04:44 PM Aug 13, 2026Updated: 09:14 PM Aug 13, 2026

ফের চোখ রাঙাচ্ছে এইচ১এন১ (H1N1)। দিল্লিতে এ বছর এখনও পর্যন্ত ১,৩৪৪ জনের শরীরে মিলেছে এইচ১এন১ সংক্রমণ। গত বছর একই সময়ে সংখ্যাটা ছিল মাত্র ২২৯। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ছ’গুণ। শুধু দিল্লি নয়, বেঙ্গালুরু-সহ দেশের একাধিক শহরেও বাড়ছে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ।

Advertisement

ফলে ফের সামনে এসেছে ফ্লু-এর টিকার প্রয়োজনীয়তা। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা এবং ক্রনিক ডিজিজে ভোগা ব্য়ক্তিদের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা কখনও কখনও সাধারণ জ্বর-সর্দির চেহারা ছাড়িয়ে নিউমোনিয়া বা গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার কারণ হতে পারে।

এইচ১এন১ আসলে কী?
এইচ১এন১ (H1N1 Virus) কোনও আলাদা ভাইরাস নয়। এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের একটি ধরন। ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এবং বি ভাইরাসই মূলত প্রতি বছর ঋতুভিত্তিক ফ্লু-এর সংক্রমণ ঘটায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় বাতাসে যে ক্ষুদ্র জলকণা ছড়ান, তার মাধ্যমেই প্রধানত সংক্রমণ ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত বা স্পর্শ করা কোনও পৃষ্ঠ থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, প্রচণ্ড ক্লান্তি, নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া সাধারণ লক্ষণ। অধিকাংশ সুস্থ মানুষ চিকিৎসা ও বিশ্রামে সেরে ওঠেন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গড়াতে পারে নিউমোনিয়া, শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা এমনকী হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পর্যন্ত।

বাড়ছে ভাইরাসের দাপট। ছবি: সংগৃহীত

সবার কি ফ্লু-এর টিকা নেওয়া উচিত?
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ছ’মাসের বেশি বয়সি যে কেউ ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নিতে পারেন। তবে সবার ক্ষেত্রে টিকার প্রয়োজনীয়তা এক রকম নয়। বিশেষ নজর দেওয়া দরকার—

  •  শিশুদের ক্ষেত্রে
  • ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের
  • অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের
  • ক্যানসারে আক্রান্ত বা ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে এমন ব্যক্তিদের
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের
  • চিকিৎসা না হওয়া বা নিয়ন্ত্রণে না থাকা এইচআইভি-তে আক্রান্তদের

বছরে একবারই কেন ফ্লু-এর টিকা?
ফ্লু-এর টিকা একবার নিলেই সারা জীবনের জন্য সুরক্ষা দেয় না। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ধরন ও ছড়ানোর প্রবণতা বদলাতে থাকে। সেই অনুযায়ী টিকার গঠনও নিয়মিত আপডেট করা হয়।

তাই আগের বছরের টিকা নেওয়া থাকলেও পরের বছর নতুন করে টিকা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে তিনটি ইনফ্লুয়েঞ্জা স্ট্রেনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া ট্রাইভ্যালেন্ট এবং চারটি স্ট্রেনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া কোয়াড্রিভ্যালেন্ট টিকা পাওয়া যায়।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে প্রবীণরা। ছবি: সংগৃহীত

টিকা নিলেই কি এইচ১এন১ হবে না?
এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফ্লু-এর টিকা নিলেই সংক্রমণের সম্ভাবনা একেবারে শূন্য হয়ে যায় না। তবে সংক্রমণ হলেও গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং জটিলতার ঝুঁকি কমানোই টিকার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র বা অন্য কোনও দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ পুরনো রোগের সমস্যাও বাড়িয়ে দিতে পারে।

নিউমোনিয়ার টিকা কি আলাদা?
একেবারেই আলাদা। ফ্লু হয় ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে। অন্যদিকে নিউমোকক্কাস নামের ব্যাকটেরিয়া নিউমোনিয়া-সহ বেশ কিছু গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই ফ্লু-এর টিকা এবং নিউমোকক্কাল টিকা একে অপরের বিকল্প নয়।

বয়স্কদের পাশাপাশি যাঁদের কিডনি, লিভার, ফুসফুস বা হৃদ্‌যন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা রয়েছে, তাঁদের নিউমোকক্কাল সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনকারীদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বাড়তে পারে।

৬০ বছরের বেশি বয়সিদের নিউমোকক্কাল টিকা নেওয়া প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। তবে ঠিক কোন টিকা, কতগুলি ডোজ এবং কখন নিতে হবে, তা বয়স ও শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।

প্রতিরোধে জরুরি ভ্যাকসিনেশন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে ফ্লু-এর টিকা কখন নেওয়া ভালো?
ভারতে সাধারণত বছরে দু’টি সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বেশি দেখা যায়। একটি আগস্ট থেকে অক্টোবর এবং অন্যটি জানুয়ারি থেকে মার্চ। তবে এই সময়ের বাইরেও সংক্রমণ হতে পারে।

তবে এখন কোনও শহরে সংক্রমণ বাড়ছে বলেই নিজে থেকে টিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত না নিয়ে বয়স, অসুখ এবং আগের টিকাকরণের ইতিহাস অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

টিকার পাশাপাশি সতর্ক থাকুন
এইচ১এন১ প্রতিরোধে শুধু টিকার উপর নির্ভর করলেই হবে না। ফ্লু-এর মতো উপসর্গ দেখা দিলে অন্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্য়াস বজায় রাখুন এবং কাশি বা হাঁচির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখুন। ভিড় বা বাতাস চলাচল কম এমন জায়গায় মাস্ক ব্যবহার করাও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পারে।

আর ঝুঁকিপূর্ণ কারও জ্বর-কাশির সঙ্গে যদি শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, বিভ্রান্তি বা শরীরে জলশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেয়, অথবা প্রথমে কিছুটা সুস্থ হয়ে ফের উপসর্গ বাড়তে শুরু করে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এইচ১এন১-এর বাড়বাড়ন্ত মানেই আতঙ্কের কারণ নয়। তবে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের জন্য সময়মতো টিকা, সতর্কতা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসাই পারে সংক্রমণকে গুরুতর হয়ে ওঠা থেকে আটকাতে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement