দাঁত দিয়ে ঘন ঘন নখ কামড়ান? অবসরে হোক বা কাজের মাঝে। আনমনে নখ কামড়ানোর এমন দৃশ্য অতি পরিচিত। কারও কাছে এটি নিছক অভ্যাস, কারও কাছে বিরক্তির কারণ। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই আপাত নিরীহ অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে চিরস্থায়ী পঙ্গুত্ব। বিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যার নাম ‘ডার্মাটোফেজিয়া’। দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ থেকে তৈরি হওয়া এই প্রবণতা শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের টেবিলে পৌঁছে দিতে পারে আপনাকে।
ছবি: সংগৃহীত
কেন এই মারণ নেশা?
মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, এটি আসলে ‘বডি-ফোকাসড রিপিটেটিভ বিহেভিয়ার’ বা বিএফআরবি। যখন কোনও মানুষ তীব্র উদ্বেগ বা অবসাদে ভোগেন, তখন মস্তিষ্ককে শান্ত করতে নিজের অজান্তেই নখ চলে যায় দাঁতের ডগায়। এটি এক ধরনের ‘অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার’ বা ওসিডি-র পর্যায়ে পড়ে। প্রাথমিক ভাবে এই প্রবণতাকে পাত্তা না দিলেও, এর পরিণাম হতে পারে ভয়াবহ।
সংক্রমণের নীল নকশা
নখ কামড়ানোর ফলে আঙুলের চারপাশের চামড়া ছিঁড়ে যায়। লালার মাধ্যমে মুখ গহ্বরের ব্যাকটেরিয়া সেই ক্ষত দিয়ে সরাসরি রক্তে মেশে। এর ফলে ‘প্যারোনিচিয়া’ বা নখের কোণে পুঁজ জমার মতো সংক্রমণ তৈরি হয়। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই সংক্রমণ যদি নখের নিচের নরম অংশ বা ‘নেল বেড’ নষ্ট করে দেয়, তবে নখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। আরও ভয়ের বিষয় হল, এই সংক্রমণ হাড়ের গভীরে পৌঁছালে সেখানে পচন বা ‘গ্যাংগ্রিন’ হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। তখন আক্রান্ত আঙুলটি কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না।
ছবি: সংগৃহীত
মুক্তির উপায় কী?
এই মারণ অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে প্রথমেই প্রয়োজন মানসিক স্থিরতা। নিয়মিত প্রাণায়াম বা শরীরচর্চা মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া প্রয়োজন।
১) নখ সব সময় খুব ছোট করে ছেঁটে রাখুন।
২) নখের ডগায় তেতো স্বাদের নিরাপদ প্রলেপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩) অত্যধিক দুশ্চিন্তা হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা থেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।
সামান্য অসতর্কতা আপনার শরীরের একটি অঙ্গ কেড়ে নিতে পারে। তাই নখ কামড়ানোর এই অভ্যাসকে ‘ছেলেমানুষি’ ভেবে এড়িয়ে না যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
