আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় কোভিড-১৯। সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে ফিরেছে নতুন রূপে। সম্প্রতি নজরে এসেছে নতুন ভ্যারিয়েন্ট BA.3.2। ডাকনাম সিকাডা। নয়া রূপটিতে ভাইরাসের অন্তত ৭০-৭৫টি মিউটেশন হয়েছে! এই ভ্যারিয়েন্ট ইতিমধ্যেই আমেরিকা-সহ বহু দেশে ছড়িয়েছে। এত বেশি মিউটেশন হওয়ায় বিজ্ঞানীদের নজর এখন এই ভ্যারিয়েন্টের দিকেই। প্রশ্ন আসছে, এর সঙ্গে লড়াইয়ে কোভিডের বর্তমান টিকাগুলোর কার্যকরিতা বজায় থাকবে না তো?
কী কারণে আলাদা এই ভ্যারিয়েন্ট?
ভাইরাসের মিউটেশন নতুন কিছু নয়, কিন্তু BA.3.2-এর ক্ষেত্রে সংখ্যাটা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এই মিউটেশনগুলো ভাইরাসকে আরও সংক্রামক করে তুলতে পারে, কিংবা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে ফাঁকি দিতে পারে, এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, এটি আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় বেশি বিপজ্জনক কিনা।
সন্দহ হলে টেস্ট মাস্ট। ছবি: সংগৃহীত
কোথায় ছড়িয়েছে?
ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ ইয়র্ক-সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজ্যে এই ভ্যারিয়েন্টের হদিশ মিলেছে। পাশাপাশি ২০টিরও বেশি দেশে এর উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তার মানেই যে এটি বেশি মারাত্মক- তা নয়।
উপসর্গে নতুন কোনও লক্ষণ?
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, BA.3.2-এর উপসর্গ আগের মতোই পরিচিত-
- জ্বর
- শুকনো কাশি
- গলা ব্যথা
- ক্লান্তি
- মাথা ও শরীর ব্যথা
- নাক বন্ধ বা সর্দি
কিছু ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে-
- স্বাদ বা গন্ধ হারানো
- শ্বাসকষ্ট
অর্থাৎ, উপসর্গে বড় কোনও পরিবর্তন নেই। উপসর্গের তীব্রতা ব্যক্তি বিশেষে আলাদা হতে পারে, বিশেষ করে বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে এই তীব্রতা।
ভ্য়াকসিন দেবে সুরক্ষা? ছবি: সংগৃহীত
ভ্যাকসিন কি এখনও ভরসা দেবে?
ভ্যাকসিনই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। নতুন ভ্যারিয়েন্ট কিছুটা ইমিউনিটি এড়িয়ে যেতে পারলেও, ভ্যাকসিন গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বুস্টার ডোজ নেওয়ার উপর জোর দিচ্ছেন, কারণ এটি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে মজবুত করে।
পরিস্থিতি কি ভয় পাওয়ার মতো?
এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনও তথ্য নেই। ভাইরাসের এই পরিবর্তনগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়- সতর্কতা এখনও জরুরি।
কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?
- সময়মতো ভ্যাকসিন ও বুস্টার নিন
- ভিড় এড়িয়ে চলুন এবং মাস্ক ব্যবহার করুন
- হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যেস বজায় রাখুন
- অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকুন
- প্রয়োজনে কোভিড পরীক্ষা করান
BA.3.2 'সিকাডা' নতুন হলেও অচেনা নয়। কোভিড এখনও শেষ হয়নি। তবে ভয় নয়, সচেতনতাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। পরিস্থিতির উপর নজর রাখুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন- এতেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
