সোশাল মিডিয়া খুললেই এক নতুন ট্রেন্ড চোখে পড়ছে, সকালে খালি পেটে এক চামচ অলিভ অয়েলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে 'শট' খাওয়া। ওয়েলনেস ইনফ্লুয়েন্সারদের দাবি, এই ছোট্ট অভ্যেস নাকি বদলে দিতে পারে হজম, ত্বক, এমনকী সারাদিনের এনার্জিও। কেউ বলছেন, মাত্র ৭ দিনেই মুখে গ্লো এসেছে, আবার কেউ দু-সপ্তাহে চুল, ত্বক, হজমশক্তি- সবকিছুতেই উন্নতি টের পেয়েছেন।
ভারতেও দ্রুত ছড়িয়েছে এই ট্রেন্ড। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, এটা কি সত্যিই এতটা কার্যকর, নাকি একটু বাড়াবাড়ি দাবি? চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকে দেখলে, এই মিশ্রণে কিছু উপকার অবশ্যই আছে, তবে তা যতটা বলা হচ্ছে, ঠিক ততটাও আবার নয়।
হেলথ হ্যাক না হেলথ মিথ? ছবি: সংগৃহীত
অলিভ অয়েল, শরীরের জন্য ভালো ফ্যাটের একটি উৎস। এতে থাকা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হার্টের স্বাস্থ্যের পক্ষে সহায়ক। পাশাপাশি পলিফেনল ও ওলিওকান্থালের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। কাঁচা অবস্থায় খাওয়ার ফলে এই উপাদানগুলোর একটু বাড়তি সুবিধা মেলে।
লেবুর রস যোগ করলে মিশ্রণটি পায় ভিটামিন সি, ফ্ল্যাভোনয়েড ও সাইট্রিক অ্যাসিড। এগুলো হজম প্রক্রিয়াকে কিছুটা সক্রিয় করতে পারে, ইমিউন সিস্টেমকে সহায়তা করে এবং কিছু ক্ষেত্রে কিডনি স্টোনের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য় করে।
তাহলে কি এটাকে প্রতিদিনের অভ্যেস পরিণত করাই যায়?
এখানেই একটু বাস্তবতা জরুরি। 'ডিটক্স' শব্দটা যতটা জনপ্রিয়, ততটাই ভুল বোঝাবুঝিতে ভরা। আমাদের শরীর নিজেই লিভার ও কিডনির মাধ্যমে টক্সিন দূর করে। কোনও নির্দিষ্ট পানীয় একাই সেই কাজ করে দেবে, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
এছাড়া অলিভ অয়েল ক্যালরিতে ভরপুর। প্রতিদিন শট হিসেবে খেলে অজান্তেই অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে ঢুকতে পারে, যাতে ওজন বাড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খালি পেটে তেল খেলে বমিভাব বা হালকা অস্বস্তিও হতে পারে।
ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে নয়, শরীর বুঝে। ছবি: সংগৃহীত
তাহলে কী করণীয়?
এই মিশ্রণ খেতে চাইলে খাওয়া যেতে পারে, কিন্তু সেটাকে একমাত্র সমাধান ভাবা ঠিক নয়। বরং এটি একটি সহায়ক অভ্যেস হিসেবে দেখাই ভালো।
শরীরকে সুস্থ রাখার কোনও শর্টকাট পদ্ধতি নেই। সুষম খাদ্যাভ্য়াস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, এই তিনই সবচেয়ে কার্যকর 'হেলথ হ্যাক'। অলিভ অয়েল-লেবুর শট চাইলে রোজকার ডায়েটে যোগ করতেই পারেন, কিন্তু সেটাই সবকিছু বদলে দেবে, এমন আশা না রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
