সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা শুধু মানসিক প্রস্তুতির বিষয় নয়, শারীরিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দম্পতি গর্ভধারণের পর চিকিৎসকের কাছে যান, কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, তার আগেই কিছু পরীক্ষা করিয়ে নিলে ভবিষ্যতের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। এতে লুকিয়ে থাকা শারীরিক সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি বা সংক্রমণ আগে থেকেই ধরা পড়ে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসাও শুরু করা যায়।
ছবি: সংগৃহীত
মহিলাদের জন্য যে পরীক্ষাগুলি গুরুত্বপূর্ণ
হরমোন টেস্ট
থাইরয়েড, প্রোল্যাক্টিন ও অন্যান্য প্রজনন হরমোনের মাত্রা জানা জরুরি। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ওভ্য়ুলেশন ও ঋতুচক্রে প্রভাব পড়ে, ফলে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ওভারিয়ান রিজার্ভ টেস্ট
অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন বা এএমএইচ পরীক্ষার মাধ্যমে ডিম্বাণুর পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যাঁরা একটু দেরিতে সন্তান নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এটি বিশেষভাবে প্রয়োজন।
পেলভিক আল্ট্রাসাউন্ড
জরায়ু ও ডিম্বাশয়ে ফাইব্রয়েড, সিস্ট বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম আছে কি না, তা বোঝার জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। সমস্যা আগে ধরা পড়লে চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ হয়।
সংক্রমণ সংক্রান্ত রক্ত পরীক্ষা
হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইচআইভি এবং রুবেলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে কি না, তা জানা জরুরি। কিছু সংক্রমণ গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ব্লাড সুগার ও হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা
ডায়াবেটিস, রক্তাল্পতা বা পুষ্টির ঘাটতি থাকলে তা আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত। সুস্থ গর্ভধারণের জন্য এগুলি গুরুত্বপূর্ণ।
ছবি: সংগৃহীত
পুরুষদের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
বীর্য পরীক্ষা বা সিমেন অ্যানালিসিস
শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি ও গঠন স্বাভাবিক কি না, তা জানার জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। স্বাভাবিক গর্ভধারণে এটি বড় ভূমিকা রাখে।
হরমোন টেস্ট
টেস্টোস্টেরন-সহ অন্যান্য হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা দরকার। হরমোনের সমস্যা থাকলে শুক্রাণু উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে।
ব্লাড সুগার, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ
লাইফস্টাইলজনিত রোগ প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষাও অবহেলা করা উচিত নয়।
যৌন সংক্রমণ পরীক্ষা
সেক্সচুয়ালি ট্রান্সমিটেড ইনফেকশন আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এতে ভবিষ্যতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।
সন্তান পরিকল্পনা আনন্দের, কিন্তু দায়িত্বও কম নয়। আগে থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলি করিয়ে নিলে বাড়ে আত্মবিশ্বাস, কমে অযথা উদ্বেগ এবং এড়ানো যায় গর্ভধারণে জটিলতাও। অসুখ সময়মতো ধরা পড়লে সমাধানও সহজ হয়।
