২০২৩ সালে টেনিস কোর্টকে বিদায় জানান টেনিস-সুন্দরী সানিয়া মির্জা। কিন্তু তাঁকে দেখে বোঝার উপায় নেই বয়স ৪০ ছুঁইছুঁই। ত্বকে নেই কোনও দাগছোপ। নেই বলিরেখা। টান টান উজ্জ্বল ত্বক। ত্বকের পরিচর্যায় বরাবরই তিনি বেশ যত্নশীল। সকালে উঠে ত্বকের জন্য় একধরনের পরিচর্যা, আবার রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে আলাদা রুটিন। শোনা যায় ত্বকের পরিচর্যায় তিনি ফলো করেন কোরিয়ান পদ্ধতি। এবার জানা গেল, ত্বকের যত্নে তিনি ‘রেড লাইট থেরাপির’ও সাহায্য় নেন। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, গত এক বছরে স্কিনকেয়ার রুটিনে তিনি সবচেয়ে বেশি উপকার পেয়েছেন ‘রেড লাইট থেরাপি’ থেকে। তাঁর কথায়, প্রতিদিন প্রায় আধঘণ্টা লাল আলোর সামনে থাকেন তিনি, আর তাতেই নাকি ত্বক ও চুল থাকে সতেজ, প্রাণবন্ত। কিন্তু এই থেরাপি আদৌ কতটা কার্যকর? শুধু সেলিব্রিটি ট্রেন্ড, নাকি এর পেছনে রয়েছে বিজ্ঞান?
ছবি: সংগৃহীত
রেড লাইট থেরাপি আসলে কী?
রেড লাইট থেরাপি, যাকে লো-লেভেল লাইট থেরাপিও বলা হয়। এতে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল ও ইনফ্রারেড রশ্মি বা আলো ব্যবহার করা হয়। এটি ত্বকের উপরের স্তর ভেদ করে কোষের গভীরে পৌঁছে কাজ করে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি আলট্রাভায়োলেট রশ্মির মতো ত্বকের ক্ষতি করে না। ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করলে এই পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। এটি ত্বকের বলিরেখা, দাগছোপ, এমনকী ব্রণর সমস্য়াতেও দারুণ কার্যকর।
কোষের ভেতরে কী ঘটে?
আমাদের কোষে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তি উৎপাদন করে। ফলে কোষের মেরামতি ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এই থেরাপির প্রভাবে ত্বকে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ে, প্রদাহ কমে এবং টেক্সচার উন্নত হয়। বাড়ে ত্বকে রক্তসঞ্চালন। ফলে হেয়ার ফলিকল সুস্থ থাকে।
চুলের স্বাস্থ্য় ভাল রাখতে
গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া বা প্রাথমিক পর্যায়ের চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে লো-লেভেল রেড লাইট থেরাপি উপকার দিতে পারে। এটি নিষ্ক্রিয় হেয়ার ফলিকলকে সক্রিয় করতে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য় করে। তবে এটি কোনও ম্যাজিক সমাধান নয়। দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়ার মতো গুরুতর সমস্য়ার ক্ষেত্রে একে একমাত্র চিকিৎসা হিসেবে ধরা ঠিক নয়। বরং অন্যান্য চিকিৎসার সঙ্গে সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে এটি বেশি কার্যকর।
ছবি: সংগৃহীত
আধঘণ্টা বসা কি নিরাপদ?
ক্লিনিক্যাল সেটিংসে সাধারণত ১০ থেকে ৩০ মিনিটের সেশন করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় বা উচ্চ-তীব্রতার যন্ত্র নিজের মতো ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, হালকা জ্বালা বা মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সবার জন্য উপযুক্ত?
অধিকাংশের ত্বকই এই থেরাপি সহ্য করতে পারে। কিন্তু যাঁদের ফটোসেন্সিটিভ সমস্যা রয়েছে, ত্বকে কোনও সংক্রমণ রয়েছে বা এমন কোনও ওষুধ খান, যে কারণে আলোতে সংবেদনশীলতা বাড়ে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই থেরাপি নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, রেড লাইট থেরাপি একা ত্বকের কোনও ম্য়াজিক থেরাপি নয়। সঠিক স্কিনকেয়ার, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস, চুলের যত্ন এবং সান প্রোটেকশনের সঙ্গে এই থেরাপি ব্যবহার করলে তবেই সুফল মেলা সম্ভব।
