সমীক্ষা জানায়, ভারতে ভাতের পরেই যে খাবার সবচাইতে বেশি খায় সাধারণ মানুষ, তার নাম রুটি (eating rotis)। অনেক বাঙালি বাড়িতেই দুপুরে ভাত খাওয়া হলেও রাতের জন্য বরাদ্দ থাকে রুটি। সাদা ভাত খেলে দ্রুত ওজন বেড়ে থাকে। কর্মক্ষমতা কমে। ঘুম পায় সারাক্ষণ। তাই ভাতের বিকল্প হিসেবে রুটি খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। অনেক পুষ্টিবিদও এ কথা বলেন যে ওজন কমাতে চাইলে খাবারের তালিকা থেকে ভাত একেবারে ছেঁটে ফেলে, সে জায়গা দেওয়া যায় রুটিকে।
রুটি খেলে পেট ফেঁপে যেতে পারে, হতে পারে বুকজ্বালার মতো সমস্যা।
কিন্তু সত্যি কি তা কার্যকরী? এ বিষয়ে সাবধান করছেন চিকিৎসকেরা।
১। রুটি মূলত গমের আটা দিয়ে তৈরি, যা কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ। ফলে বেড়ে যেতে পারে রক্তশর্করা। টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
২। খাদ্যতালিকা অতিরিক্ত রুটি-নির্ভর হলে ফল, সবজি ও অন্যান্য খাবার থেকে যে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবার পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তার ঘাটতি হয়। প্রোটিনের অভাব হলে তা পেশি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।
৩। অতিরিক্ত রুটি খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস-অম্বল হতে পারে। বিশেষ করে গমে থাকা গ্লুটেন হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে। যারা সেলিয়্যাক ডিজিজে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে রুটি নানাবিধ হজমজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে।
৪। রুটির স্টার্চ দাঁতে লেগে থাকতে পারে। সঠিকভাবে দাঁত পরিষ্কার না করলে ক্যাভিটি বা দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাছাড়াও রুটি কী পরিমাণে তা খাওয়া হচ্ছে, সঙ্গত হিসেবে কী বেছে নেওয়া হচ্ছে, তার উপরেই নির্ভর করে মোট কত ক্যালোরি প্রবেশ করবে মানবশরীরে।
- রুটি এমনিতে পাতলা। খেলে যে শরীরে ভারী ভাব অনুভূত হবে, কিংবা ঘুম-ঘুম ভাব দেখা দেবে, তা নয়। ফলে ভাত অনেকেই মেপে খেলেও, রুটির ক্ষেত্রে একের পর এক খাওয়া হয়ে যায়!
- অনেকে রুটির সঙ্গে ভাজা খাবার খেয়ে থাকেন। কেউ আবার রুটি খেলেই মিষ্টি রাখেন পাতে। এমনটা নিয়মিত হতে থাকলে দ্রুত ওজন বাড়তে থাকে।
- অনেকে আটার রুটি পছন্দ করেন না। ফলে সুযোগ পেলেই তা বানিয়ে নেন ময়দা দিয়ে। মনে রাখবেন, লুচি-পরোটায় যে ক্ষতি, ময়দার রুটিতেও তাই।
- বাঙালি বাড়িতে রাতে রুটি খাওয়ার চলই বেশি। যদি প্রচুর পরিমাণে রুটি খাওয়া হয়, তবে শরীরে জলটান ধরে। রুটিতে ভাতের মতো জলীয় ভাব নেই। ফলে প্রয়োজনের চাইতে বেশি রুটি খেয়ে ঘুমাতে গেলে, বুকজ্বালা হয়। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
রুটির স্টার্চ দাঁতে লেগে থাকলে দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাই রুটি খেলেই মেদ কমবে, এই ধারণার বাইরে বেরিয়ে, কটা রুটি খাওয়া হচ্ছে, এবং সঙ্গে পাতে কী কী থাকছে, সে বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। এছাড়াও সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত জল পান করার দিকে নজর দিতে হবে।
