সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শীতের আমেজে পাতে মটরশুঁটি মানেই বাড়তি স্বাদ। তবে এই সবুজ দানা কেবল রসনাতৃপ্তি নয়, একই সঙ্গে প্রোটিন ও ফাইবারের খনি। সুগার নিয়ন্ত্রণ থেকে হজমশক্তি বৃদ্ধি— এর বহুমুখী গুণ থাকলেও অসতর্কতায় লুকিয়ে আছে মহা বিপদ। কার জন্য এই সবজি আশীর্বাদ আর কার জন্য ঝুঁকি? জেনে নিন কী বলছেন পুষ্টিবিদ।
ডালজাতীয় শস্য বা লেগিউম পরিবারের এই শস্য কিন্তু প্রটিনের অন্যতম উৎস। শুধু ভূরিভোজন নয়, শরীরের বিপাকীয় ক্রিয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মহৌষধের মতো কাজ করে মটরশুঁটি।
১. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: মটরশুঁটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা তন্তু। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) তুলনামূলকভাবে কম। উচ্চ তন্তুযুক্ত হওয়ার কারণে এটি রক্তে গ্লুকোজ শোষণের গতি কমিয়ে দেয়। ফলে খাওয়ার পর হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি আদর্শ সবজি।
২. কোষ্ঠকাঠিন্য: এতে থাকা অদ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রের সঞ্চালনকে ত্বরান্বিত করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিকের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস: মটরশুঁটিতে ভিটামিন এ, সি, এবং কে-এর পাশাপাশি আয়রন, জিঙ্ক ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। বিশেষ করে ভিটামিন সি এবং জিঙ্ক শীতকালীন ফ্লু ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।
৪. হার্টের স্বাস্থ্য সুরক্ষা: এতে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান ধমনীতে প্রদাহ কমায়।
কারা সতর্কতা অবলম্বন করবেন?
অতিরিক্ত মটরশুঁটি খাওয়া সবার জন্য নিরাপদ নয়।
ইউরিক অ্যাসিড: মটরশুঁটিতে পিউরিন নামক উপাদান থাকে। তাই যাদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি বা বাতের ব্যথায় ভুগছেন, তারা মটরশুঁটি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
কিডনি সমস্যা: উচ্চ প্রোটিন এবং পটাশিয়াম থাকায় ক্রনিক কিডনি ডিজিজ রোগীদের এটি মেপে খাওয়া উচিত।
পেট ফাঁপা: অতিরিক্ত সেবনে অনেকের গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে।
মটরশুঁটি পুষ্টির পাওয়ার হাউজ হলেও পরিমিতি বোধ অত্যন্ত জরুরি। অল্প পরিমাণে মটরশুঁটি খাদ্যতালিকায় রাখলে দীর্ঘমেয়াদী উপকার পাবেন। তবে কোনও নির্দিষ্ট রোগ থাকলে পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে পরিমাণ নির্ধারণ করা শ্রেয়।
