প্রচণ্ড গরমে হাতে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা, অনেকের কাছেই অভ্যেস, আবার অনেকের কাছে বিস্ময়ের বিষয়। বাইরে যখন তাপমাত্রা বাড়ছে, তখন গরম চা খেলে কি সত্যিই শরীর ঠান্ডা হতে পারে? শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের শরীরের স্বাভাবিক কাজের ভেতরেই।
গরম চা পান করলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ে। এই পরিবর্তন শরীরকে সংকেত দেয় যে, এখন নিজেকে ঠান্ডা করতে হবে। ফলে শরীর ঘামতে শুরু করে। এই ঘাম যখন ত্বক থেকে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়, তখন শরীর ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়। এই প্রক্রিয়াকেই বলা হয় থার্মোজেনিক এফেক্ট।
অন্যদিকে ঠান্ডা পানীয় মুখে দিলেই তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু শরীরকে ঘামতে ততটা উৎসাহিত করে না। ফলে ভেতর থেকে ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়াও তেমন সক্রিয় হয় না।
ছবি: সংগৃহীত
তবে এই অভ্যেস সব পরিস্থিতিতে সমান কাজ করে না। শুষ্ক গরমে চা বেশি কার্যকর, কারণ ঘাম দ্রুত শুকিয়ে শরীর ঠান্ডা হয়। কিন্তু আর্দ্র গরমে ঘাম শুকোতে সময় লাগে, ফলে গরম চায়ের প্রভাব কমে যায়। আবার যাঁদের স্বাভাবিকভাবে ঘাম কম হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই উপকার কম অনুভূত হতে পারে।
চায়ের ভেতরেও রয়েছে আরও কিছু গল্প। আদা, এলাচ বা লবঙ্গ মেশানো চা শুধু স্বাদ বাড়ায় না, হজমে সাহায্য করে এবং শরীরকে রাখে প্রাণবন্ত। তবে অতিরিক্ত ফুটানো চায়ে ট্যানিন বেড়ে গেলে পেটে অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে।
ঠান্ডা পানীয় দ্রুত স্বস্তি দিলেও তা ক্ষণস্থায়ী। চা শরীরকে নিজে থেকে ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ দেয়, যা দীর্ঘ সময় বেশি কার্যকর হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি, খুব বেশি গরম চা না খাওয়াই ভালো, দিনে কতটা চা খাচ্ছেন তা খেয়াল রাখা দরকার, আর নিজের শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে সেটাও বোঝা জরুরি।
গরমে চা খাওয়া কোনও অদ্ভুত অভ্যেস নয়। বরং এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার উপর ভরসা করা। সঠিকভাবে আর পরিমিত পরিমাণে চা খেলে, এই সাধারণ অভ্যেসই গরমের দিনে এনে দিতে পারে অপ্রত্যাশিত স্বস্তি।
