ইরান যুদ্ধের জেরে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। এর জেরে গোটা বিশ্বে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সংকট। হরমুজ উন্মুক্ত করতে আজ রাতেই ৩৫ দেশকে নিয়ে বৈঠকে বসছে ব্রিটেন। ভারতকে ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দিল্লির তরফে বৈঠকে থাকার বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতি সন্ধ্যায় জানাল বিদেশ মন্ত্রক।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বৃহস্পতি রাতেই হরমুজ উন্মুক্তকরণ বৈঠক। ভারচুয়ালি বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। রণধীর বলেন, "অনেক দেশকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তার মধ্যে ভারতও আছে। বৃহস্পতিবার রাতেই হবে বৈঠক।" আরও বলেন, "আমাদের জাহাজগুলি, যেগুলিতে এলপিজি, এলএনজি ও অন্যান্য পণ্য রয়েছে, সেগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আমরা ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। গত কয়েকদিনে আলোচনার মাধ্যমে ছয়টি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে হরমুজ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।"
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বৃহস্পতি রাতেই হরমুজ উন্মুক্তকরণ বৈঠক।
সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবে আলোচনা তখনই হবে, যখন তেহরান হরমুজ মুক্ত করবে। হরমুজ দিয়ে অবাধে জাহাজ যাতায়াত করতে পারবে।’ পাশাপাশি ট্রাম্প এ-ও পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ইরানকে প্রস্তরযুগে পাঠানোই তাঁর লক্ষ্য। যাতে সহজে তারা ফের পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর শক্তি অর্জন করতে না পারে। তিনি বলেন, “যতদিন না ইরান এই শর্ত মানছেন, ততদিন আমরা তেহরানে জোরাল আঘাত হানব।” যদিও যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি খারিজ করে দিয়েছে ইরান।
প্রসঙ্গত, গোটা বিশ্বের জন্য তো বটেই হরমুজ ভারতের জন্য বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। তেলের পরই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সার। বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ সার সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। দীর্ঘদিন হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে ভারতের কৃষিজাত পণ্যের আমদানির উপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যেই বাসমতী চাল রপ্তানিতে ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহ নির্ভর করে এই প্রণালীর উপর। সারা বিশ্বের ১৫ শতাংশ অ্যালমনিয়াম সাপ্লাই হয় ওই এলাকা দিয়েই।
