এবার বিপদ কাজুবরফিতে! কাজুবরফির উপর ঝকঝকে রুপোলি রাংতা দেখলেই মিষ্টিটা যেন আরও আকর্ষণীয় লাগে। কিন্তু সেই রাংতা যদি খাঁটি রুপোর না হয়? অ্যালুমিনিয়াম বা অন্য কোনও ধাতুর তৈরি হয়? আর তা নিয়মিত খেলে অজান্তেই শরীরে ঢুকতে পারে ক্ষতিকর ধাতু।
চিকিৎসকের সতর্কতা, দীর্ঘদিন এমন দূষিত ধাতু শরীরে প্রবেশ করলে তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে লিভার, কিডনি এমনকী মস্তিষ্কেও।
পচা মাছ-মাংসের বিপদের মাঝে মিষ্টিতেও এবার ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুঁকি! চিকিৎসকদের কথায়, খাবারে ব্যবহারের উপযোগী রুপোর রাংতা অত্যন্ত পাতলা এবং খাদ্যসুরক্ষা বিধি মেনে তৈরি হয়। সমস্যা হয় যখন রুপোর নামে ব্যবহৃত রাংতায় অ্যালুমিনিয়াম, আর্সেনিক বা ক্যাডমিয়ামের মতো ধাতু থাকে।
রাংতায় অ্যালুমিনিয়াম থাকলে লিভার থেকে কিডনি সবেতেই ক্ষতিকর প্রভাব। ছবি: সংগৃহীত
এক-আধবার খেলেই কি বিপদ?
চিকিৎসকের মতে, এক-আধবার এই দূষিত ধাতুর তৈরি রাংতা খেয়ে ফেললেই যে সঙ্গে সঙ্গে বিষক্রিয়া হবে, এমন নয়। মূল উদ্বেগ দীর্ঘদিনের এবং বারবারের সংস্পর্শ। নিয়মিত দূষিত রাংতা শরীরে ঢুকতে থাকলে ভারী ধাতুর সংস্পর্শ বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে। অর্থাৎ, উৎসবের দিনে এক টুকরো কাজুবরফি খাওয়ার সঙ্গে প্রতিদিন বা নিয়মিত এমন মিষ্টি খাওয়ার ঝুঁকিকে এক করে দেখা ঠিক নয়।
চোখে দেখে চিনবেন কীভাবে?
সমস্যা হল, সাধারণ ক্রেতার পক্ষে মিষ্টির উপর লাগানো রাংতা দেখে সেটি খাঁটি রুপোর কি না, নিশ্চিত করা কঠিন। আসল রুপোর পাত সাধারণত অত্যন্ত পাতলা, হালকা ও ঝকঝকে হয়। পাত কালচে বা অস্বাভাবিক দেখালে সন্দেহ হতে পারে, কিন্তু শুধু চোখে দেখে তার ধাতব গঠন নিশ্চিত করা যায় না।
তাহলে কি রাংতা ছাড়া মিষ্টি? ছবি: সংগৃহীত
নজরদারি জরুরি
মিষ্টির উপর ব্যবহার করা রাংতায় কী ধাতু ব্যবহার করা হয়েছে, তা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই মিষ্টিতে ব্যবহৃত রাংতা খাবারের জন্য নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মিষ্টি প্রস্তুতকারক ও খাদ্যসুরক্ষা কর্তৃপক্ষের।
মিষ্টি খাওয়া এখানে মূল সমস্যা নয়। সমস্যা হল দূষিত রাংতা নিয়মিত শরীরে ঢুকলে। তাই ঝকঝকে রুপোলি আস্তরণ দেখেই সেটিকে নিরাপদ ধরে নেওয়া নয়, বরং মিষ্টির মান এবং রাংতার নিরাপত্তার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
