shono
Advertisement
Lionel Messi

৩৯-এও বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক মেসির, শরীরচর্চার সঙ্গে লুকিয়ে আর কোন রহস্য?

বয়স কখনও একমাত্র সীমাবদ্ধতা নয়। শরীরের প্রতি যত্ন, শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিকতা থাকলে সময়ের সঙ্গে লড়াই করা যায়। আর সেই লড়াইয়ে জিততে কোনও জাদুমন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 02:27 PM Jun 27, 2026Updated: 02:27 PM Jun 27, 2026

ফুটবলে বয়সের হিসাবটা বড় নির্মম। তিরিশের গণ্ডি পেরোতেই অনেকের গতি কমে, চোট বাড়ে, পারফরম্যান্সে পড়ে প্রভাব। আর ৩৯ বছর? অধিকাংশ ফুটবলারের কাছে সেটি অবসরের সময়। কিন্তু লিওনেল মেসি যেন সেই প্রচলিত ধারণাকেই বারবার ভুল প্রমাণ করছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাঁর দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়। জাতীয় দলের হয়ে ২০০তম ম্যাচে সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক, পরের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে আবর দু-গোল। এই কীর্তি আবারও মনে করিয়ে দিল, দীর্ঘদিন শীর্ষে টিকে থাকা কখনওই কেবল প্রতিভার উপর নির্ভর করে না। এর পেছনে থাকে প্রতিদিনের অনুশাসন, শরীরের প্রতি যত্ন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে অনুশীলন এবং মানসিক দৃঢ়তা।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের চাহিদাও বদলায়। সেই পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় বদল আনতে পারলেই দীর্ঘদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা সম্ভব। মেসির জীবনধারা সেই দর্শনেরই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

বয়স শুধু সংখ্যা। ছবি: সংগৃহীত

গতি নয়, এখন ভরসা শক্তি ও দক্ষতায়
ক্যারিয়ারের শুরুতে মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বিস্ময়কর গতি। সময়ের সঙ্গে সেই খেলার ধরন বদলেছে। এখন তিনি বেশি নির্ভর করেন শরীরের ভারসাম্য, পেশিশক্তি, ফ্লেক্সিবিলিটি বা নমনীয়তা এবং নিখুঁত মুভমেন্টের উপর। নিয়মিত স্ট্রেংথ ট্রেনিং বয়সের সঙ্গে পেশির ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে, জয়েন্টকে সুরক্ষিত রাখে এবং চোটের ঝুঁকি কমায়। বিশেষ করে শরীরের মধ্যভাগ পেট, কোমর ও নিচের অংশের পেশি শক্তিশালী থাকলে মাঠে দ্রুত দিক পরিবর্তন, ভারসাম্য বজায় রাখা এবং দীর্ঘ সময় একই ছন্দে খেলা অনেক সহজ হয়।

রিকভারি- যেখানে তৈরি হয় পরের দিনের শক্তি
শরীরচর্চা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া। মেসির দৈনন্দিন রুটিনে পর্যাপ্ত ঘুম, স্ট্রেচিং, ফিজিওথেরাপি এবং ম্যাচ-পরবর্তী রিকভারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে পেশি দ্রুত পুনর্গঠিত হয়, প্রদাহ কমে এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে চোটের আশঙ্কাও কমে। বর্তমান ক্রীড়াবিজ্ঞানে ম্যাসাজ থেরাপি, কোল্ড-ওয়াটার ইমারশন, কম্প্রেশন থেরাপি এবং মোবিলিটি এক্সারসাইজকেও রিকভারির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হয়। কারণ বিশ্রাম মানেই অনুশীলন থেকে দূরে থাকা নয়; বরং পরবর্তী পারফরম্যান্সের প্রস্তুতি।

ফিটনেসের পাঠ। ছবি: সংগৃহীত

সঠিক খাদ্যাভ্যাসই শরীরের সবচেয়ে বড় জ্বালানি
ফিটনেসের অন্যতম ভিত্তি হল পুষ্টি। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসি দীর্ঘদিন ধরেই ভূমধ্যসাগরীয় বা মেডিটেরিয়ান খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন। তাঁর খাদ্যতালিকায় থাকে লিন প্রোটিন, টাটকা ফল ও শাকসবজি, দানা শস্য, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং পর্যাপ্ত পানীয়। এই খাদ্যাভ্যাস শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়, পেশির পুনর্গঠনে সাহায্য করে, হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং প্রদাহ কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলেন তিনি।

বেশি অনুশীলন নয়, প্রয়োজন সঠিক অনুশীলন
আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞান বলছে, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য শুধু কঠোর পরিশ্রম যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিকল্পিত পরিশ্রম। উচ্চমাত্রার অনুশীলনের পাশাপাশি বিশ্রামের দিন রাখা, শরীরের উপর চাপের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রেনিংয়ের ধরন বদলে নেওয়া, এসবই এখন এলিট অ্যাথলিটদের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ভারসাম্যই দীর্ঘ সময় ধরে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

সময়কে হারিয়ে। ছবি: সংগৃহীত

মানসিক ফিটনেসও সমান জরুরি
খেলার ফল অনেক সময় নির্ধারণ করে শরীর নয়, মন। চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, মনোযোগ ধরে রাখা এবং আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা- এই গুণগুলো মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানসিক সুস্থতা, পর্যাপ্ত ঘুম, চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ইতিবাচক মানসিকতা দীর্ঘদিন ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

মেসির ফিটনেস থেকে আমরা কি কিছু শিখলাম?
মেসির জীবনযাপনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল, ফিটনেস কোনও একদিনের লক্ষ্য নয়; এটি প্রতিদিনের অভ্যাস। নিয়মিত শরীরচর্চা, পেশিশক্তি ও ফ্লেক্সিবিলিটি বজায় রাখা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানীয় পান, ভালো ঘুম, প্রয়োজনীয় বিশ্রাম এবং মানসিক সুস্থতা- এই সহজ নিয়মগুলোই দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনের ভিত গড়ে তোলে।

মেসির সাফল্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বয়স কখনও একমাত্র সীমাবদ্ধতা নয়। শরীরের প্রতি যত্ন, শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিকতা থাকলে সময়ের সঙ্গে লড়াই করা যায়। আর সেই লড়াইয়ে জিততে কোনও জাদুমন্ত্রের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন প্রতিদিন নিজের প্রতি একটু বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement