মুড সুইং বা হঠাৎ মনের ওঠানামা নিয়ে কথা উঠলে প্রথমেই মাথায় আসে মহিলাদের কথা। কিন্তু বাস্তবটা অন্যরকম। পুরুষদেরও হয়, মুড সুইং। অনেক সময় যেটা মহিলাদের চেয়েও বেশি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেটা চেনা যায় না বা না বলা থেকে যায়। কারণ, পুরুষদের আবেগ প্রকাশের ধরন আলাদা।
মনোবিদদের মতে, মুড সুইং আসলে মানুষের স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা। এটা কোনও নির্দিষ্ট লিঙ্গের বিষয় নয়। পার্থক্য শুধু, কে কীভাবে সেটা প্রকাশ করছে এবং সমাজ সেটা কীভাবে দেখছে।
ছবি: সংগৃহীত
মুড সুইং মানেই দুঃখ নয়, রাগও হতে পারে
পুরুষদের ক্ষেত্রে মুড সুইং সবসময় কান্না বা দুঃখের মাধ্যমে প্রকাশ পায় না। অনেক সময় সেটা দেখা যায় বিরক্তি, রাগ, অস্থিরতা বা নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার মধ্যে। তাই এগুলোকে মুড সংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে না দেখে অনেকেই এটাকে কাজের চাপ বা স্বাভাবিক আচরণ বলে ধরে নেন।
ইরিটেবল মেল সিনড্রোম কী?
পুরুষদের মুড সুইং-এর পরিচিত নাম ইরিটেবল মেল সিনড্রোম (আইএমএস)। এতে একজন মানুষ হঠাৎ করে খিটখিটে হয়ে যান, মনমরা থাকেন, ক্লান্তি আসে, এমনকী হতাশাও দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, হরমোনের পরিবর্তন, বিশেষ করে টেস্টোস্টেরনের ওঠানামা, এর পিছনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
কেন পুরুষদের মুড সুইং ধরা পড়ে না?
এর প্রধান কারণ সামাজিক ধারণা। ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের শেখানো হয়- 'ছেলেরা কাঁদে না', 'দুর্বলতা দেখানো ঠিক নয়'। ফলে তারা নিজের আবেগ চেপে রাখেন। অন্যদিকে, রাগ বা খিটখিটে মেজাজকে অনেক সময় স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া হয়। এতে সমস্যা আরও আড়ালে থেকে যায়।
ছবি: সংগৃহীত
কী কী কারণে হয় মুড সুইং?
মুড সুইং সাধারণত একটি কারণে হয় না। কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করে-
- দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ
- ঘুমের অভাব বা অনিয়ম
- শৈশবের কোনও খারাপ অভিজ্ঞতা
- জেনেটিক কারণ
- মদ্যপান বা অন্য কোনও নেশা
- অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
- বিশেষ করে ঘুমের অভাবকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না, কিন্তু এটি মুডের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
কখন চিন্তার কারণ?
হালকা মুড সুইং স্বাভাবিক। কিন্তু যদি,
- বারবার হয়
- খুব তীব্র হয়
- সম্পর্ক বা কাজের উপর প্রভাব ফেলে
তাহলে সেটা অবহেলা করা ঠিক নয়। অনেক সময় মানুষ ভাবেন এটাই আমার স্বভাব, তাই সাহায্য চান না, এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।
ছবি: সংগৃহীত
স্ট্রেস ও নেশার প্রভাব
স্ট্রেস যত বাড়ে, মস্তিষ্ক ততই চাপে থাকে। এতে মুড আরও অস্থির হয়ে ওঠে। আবার অনেকেই স্ট্রেস কমাতে মদ বা অন্য নেশার দিকে ঝোঁকেন, যা উলটে মুডকে আরও খারাপ করে দেয়।
কেন সাহায্য নিতে পিছিয়ে পড়েন পুরুষরা?
অনেক পুরুষ মনে করেন, এসব বিষয় নিজেকেই সামলাতে হবে। সমাজের চাপ, লজ্জা বা বিচার হওয়ার ভয়, সব মিলিয়ে তারা সহজে কাউকে কিছু বলেন না। কিন্তু এতে সমস্যা আরও গভীর হতে পারে।
কীভাবে সামলাবেন?
কিছু ছোট পরিবর্তন অনেক বড় পার্থক্য আনতে পারে-
- নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম
- প্রতিদিন কিছুটা শরীরচর্চা
- স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা
- নেশা কমানো বা এড়িয়ে চলা
- নিজের অনুভূতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলা
- প্রয়োজনে মনোবিদ বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়াও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পুরুষদের মুড সুইং হয়, এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। এই বিষয় খোলামেলা কথা বলাই প্রথম পদক্ষেপ। কারণ, মানসিক স্বাস্থ্যের কোনও লিঙ্গ হয় না।
