বাইরে থেকে দেখলে সব ঠিকঠাক। ছিপছিপে গড়ন, নিয়মিত জিম, নিয়ন্ত্রিত ডায়েট। অনেকেই মনে করেন, এটাই সুস্থতার শেষ কথা। কিন্তু চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা বলছে, এই ছবিটা সব সময় সঠিক তথ্য দেয় না।
আজকের শহুরে জীবনে ফিটনেস যেন এক ধরনের পরিচয়। সকালে দৌড়, জিমে ঘাম ঝরানো, ক্যালরি গোনা- সব মিলিয়ে এটাই 'পারফেক্ট লাইফস্টাইল'। কিন্তু এই নিখুঁত ছবির আড়ালেই অনেক সময় নীরবে বাসা বাঁধে সমস্যা।
ফিটনেস মানে শুধু পেশি বা ওজন নিয়ন্ত্রণ নয়। ছবি: প্রতীকী
বাইরে ফিট, ভেতরে অস্বস্তি
এখন অনেক মানুষকেই দেখা যাচ্ছে, আপাতদৃষ্টিতে যাঁদের সুস্থ বলে মনে হলেও, পরীক্ষায় ধরা পড়ছে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, প্রি-ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের গোলমাল বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। অর্থাৎ, শরীরের ভেতরে চলতে থাকা সমস্যার কোনও চিহ্ন বাইরে থেকে বোঝা যায় না। ফিটনেস মানে শুধু পেশি বা ওজন নিয়ন্ত্রণ নয়, এই সরল সত্যটাই আমরা অনেক সময় ভুলে যাই।
অদৃশ্য চাপ, মানসিক অস্বস্তি
স্বাস্থ্যকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয় যে বিষয়গুলো, সেগুলোই সবচেয়ে কম চোখে পড়ে। মানসিক চাপ, ঘুমে ঘাটতি, একঘেয়ে বা চরম ডায়েট, আর অতিরিক্ত ব্যায়াম- এই চারটি বিষয় নিঃশব্দে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
স্ট্রেস বাড়লে কর্টিসল বাড়ে, যা শরীরের মেটাবলিজমকে প্রভাবিত করে। আবার ঘুমের অভাব হরমোনের ছন্দ ভেঙে দেয়। তার উপর যদি যোগ হয় অত্যন্ত কঠোর ডায়েট বা ওভারট্রেনিং, তাহলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে ভেতর থেকে।
অতিরিক্ত কিছুই ভালো নয়। ছবি: প্রতীকী
'এক্সট্রিম' মানেই ভালো নয়
দ্রুত ফল পাওয়ার তাড়নায় অনেকেই চরম পথে হাঁটেন। হঠাৎ করে খুব কম খাওয়া বা অস্বাভাবিক মাত্রায় ব্যায়াম, এগুলো শরীরকে চাপে ফেলে। প্রথমে ফল মিললেও, দীর্ঘমেয়াদে তা ক্ষতির দিকেই নিয়ে যায়।
শরীরকে শুধু কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে ঠেলে দিলেই হবে না, তাকে সময় দিতে হবে। রিকভারি, বিশ্রাম, এগুলোও ফিটনেসেরই অংশ।
সুস্থতার সংজ্ঞা বদলানো দরকার
সুস্থতা আসলে একটা অনুভূতি, যা আয়নায় দেখা যায় না। আপনি কতটা চনমনে, আপনার ঘুম কেমন, হরমোন ঠিকমতো কাজ করছে কি না, মানসিকভাবে আপনি কেমন আছেন, এসবই সুস্থতার আসল সূচক।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা তাই বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন। কারণ অনেক সমস্যাই চুপচাপ বাড়ে, কোনও লক্ষণ না দিয়েই।
‘দেখতে ভালো’ আর ‘ভালো থাকা’ এক জিনিস নয়। শরীরের ভেতরের যত্নটাই আসল। সুষম খাদ্যাভ্যাস, মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, এই ভারসাম্যই গড়ে তোলে সত্যিকারের সুস্থতা।
