আকাশ ভাঙা বৃষ্টি আর মাটির সোঁদা গন্ধে মন যতই ভালো হোক না কেন, এই মরশুমে শরীর খারাপ হয় সবচেয়ে বেশি। বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা আর জমা জল জীবাণুদের বংশবৃদ্ধির জন্য একেবারে আদর্শ। এই সময়েই বাতাসে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার দাপট মারাত্মক বেড়ে যায়। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের চোখে। একটু অসাবধানতায় দানা বাঁধতে পারে বড় সংক্রমণ। তাই এই মরশুমে চোখের অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। কী করবেন?
ফাইল ছবি
১) বর্ষাকালে মূলত কনজাংটিভাইটিস বা ‘জয় বাংলা’, চোখের পাতায় অঞ্জনি এবং ব্ল্যাকফাঙ্গাসের মতো সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, গরম ও আর্দ্রতার কারণে মেকআপ সামগ্রী বা কন্ট্যাক্ট লেন্সে জীবাণু দ্রুত ছড়ায়। এছাড়া বৃষ্টির জলের সঙ্গে মেশা ধুলোবালি চোখে ঢুকলে মারাত্মক জ্বালা ও অ্যালার্জি হতে পারে। চোখ লাল হওয়া, অনবরত জল পড়া বা পিঁচুটি জমার মতো উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২) জলকাদার দিনে অনেকেই ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ ব্যবহার করেন। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, এই ধরনের মেকআপ সহজে উঠতে চায় না। ফলে চোখের পাতার গ্রন্থিগুলি বন্ধ হয়ে সংক্রমণ ছড়ায়। পুরনো মেকআপ কিট বা নোংরা ব্রাশ থেকেও চোখে ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। তাই ৩ মাসের পুরনো চোখের মেকআপ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এমনকী নিজের কাজল, লাইনার বা মাসকারা অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াও মারাত্মক ভুল।
ফাইল ছবি
৩) যাঁরা কন্ট্যাক্ট লেন্স পরেন, বর্ষায় তাঁদের বিপদ সবচেয়ে বেশি। লেন্স পরার বা খোলার আগে হাত ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। প্রতিবার ব্যবহারের পর লেন্সের সলিউশন বদলে ফেলা বাধ্যতামূলক। কোনও ভাবেই সাধারণ জল দিয়ে লেন্স পরিষ্কার করা চলবে না। সলিউশনের বোতল খোলার পর সর্বোচ্চ ৩ মাস ব্যবহার করা যায়, মেয়াদ ফুরোলে তা বদলে ফেলুন।
৪) সবচেয়ে জরুরি নিয়ম হল, অপরিষ্কার হাতে ভুলেও চোখ ছোঁয়া যাবে না। মুখে বৃষ্টির জল লাগলে অবিলম্বে পরিষ্কার জল দিয়ে চোখ ধুয়ে নিন। তবে সবচেয়ে বড় ভুল হল, চোখ লাল হলেই নিজে নিজে দোকান থেকে ড্রপ কিনে ব্যবহার করা। ভাইরাল সংক্রমণকে ব্যাকটেরিয়াল ভেবে ভুল ওষুধ দিলে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া বা চোখে তীব্র ব্যথা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান।
