shono
Advertisement

Breaking News

Pilots Cabin Crew Cancer Risk

আকাশে ওড়ায় বাড়ে ক্যানসারের ঝুঁকি? পাইলট-কেবিন ক্রুর সঙ্গে বিপদ যাত্রীদেরও? কী বলছে গবেষণা

আকাশে বিকিরণ বেশি কেন? শরীরে কী প্রভাব ফেলতে পারে? সাধারণ যাত্রীদের কি চিন্তার কারণ আছে?
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 06:32 PM Aug 21, 2026Updated: 07:14 PM Aug 21, 2026

বছরে কয়েকবার বিমানে ওঠেন সাধারণ যাত্রীরা। কয়েক ঘণ্টার উড়ান শেষ হলেই তাঁদের আকাশযাত্রা শেষ। কিন্তু পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ক্ষেত্রে ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। কর্মজীবনের হাজার হাজার ঘণ্টা তাঁরা বিমানের ভিতরেই কাটান। ফলে দীর্ঘদিন ধরে মহাজাগতিক বিকিরণের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনাও তাঁদের বেশি।

Advertisement

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা এই বিষয়টিই নতুন করে সামনে এনেছে। জামা ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণায় ৫০০-রও বেশি পেশার মধ্যে ক্যানসারে মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা যায়, পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্টদের মধ্যে বিকিরণ-সম্পর্কিত ক্যানসারে মৃত্যুর অনুপাত তুলনামূলক বেশি। ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্টদের ক্ষেত্রে এই হার ৬.৯ শতাংশ এবং পাইলটদের ক্ষেত্রে ৬.৭ শতাংশ। সব পেশা মিলিয়ে হার ছিল প্রায় ৫ শতাংশ।

তবে গবেষণার এই ফলকে সরাসরি ‘বিমানে কাজ করলে ক্যানসার হয়’ বলে ব্যাখ্যা করা যাবে না। গবেষণাটি পেশা এবং বিকিরণ-সম্পর্কিত ক্যানসারে মৃত্যুর মধ্যে একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছে, সরাসরি কারণ প্রমাণ করেনি।

যাত্রীরাও কি ঝুঁকিতে? ছবি: সংগৃহীত

আকাশে বিকিরণ বেশি কেন?
মহাকাশ থেকে আসা মহাজাগতিক বিকিরণের একটি বড় অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল আটকে দেয়। সেটিই আমাদের প্রাকৃতিক সুরক্ষা। কিন্তু বিমান যখন প্রায় ৩০ হাজার ফুট বা তার বেশি উচ্চতায় উড়ে, তখন তার নীচে থাকা বায়ুমণ্ডলের স্তর পাতলা হয়ে যায়। ফলে মাটিতে থাকা মানুষের তুলনায় বিমানে থাকা পাইলট ও কেবিন ক্রুরা বেশি আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসেন।

তবে সব উড়ানে বিকিরণের পরিমাণ সমান নয়। বিমান কত উচ্চতায় উড়ছে, কতক্ষণ উড়ছে, কোন অক্ষাংশ দিয়ে যাচ্ছে এবং সূর্যের সক্রিয়তা কেমন, তার উপর বিকিরণের মাত্রা নির্ভর করে। দীর্ঘপথের উড়ান এবং মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি রুটে সংস্পর্শ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

শরীরে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
আয়োনাইজিং রেডিয়েশন কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শরীর সাধারণত সেই ক্ষতি মেরামত করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বারবার সংস্পর্শে এলে কোষে পরিবর্তন আসতে পারে, যা কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গবেষণায় লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা, মাল্টিপল মায়লোমা, মেলানোমা-সহ বিভিন্ন ক্যানসারের সঙ্গে বিকিরণের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে পাইলট ও কেবিন ক্রুদের মধ্যে মেলানোমার ঝুঁকি নিয়ে আগের গবেষণাগুলিও রয়েছে। সেখানে বিকিরণের পাশাপাশি সূর্যালোক, জীবনযাপন এবং অন্যান্য পেশাগত কারণও বিবেচনা করা হয়েছে।

আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের প্রভাব শরীরে! ছবি: সংগৃহীত

শুধু বিকিরণই দায়ী নয়
এয়ারক্রুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ঘুমের ছন্দের পরিবর্তন। রাতের শিফট, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং একাধিক টাইম জোন পেরনোর কারণে তাঁদের শরীরের স্বাভাবিক সার্কাডিয়ান রিদম বারবার বিঘ্নিত হতে পারে।

দীর্ঘদিনের ঘুমের ব্যাঘাত ও সার্কাডিয়ান রিদমের পরিবর্তন বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে যুক্ত কি না, তা নিয়েও গবেষণা চলছে। তাই এয়ারক্রুদের ক্যানসারের ঝুঁকি ব্যাখ্যা করতে গেলে শুধু মহাজাগতিক বিকিরণকে দায়ী করা ঠিক নয়।

সাধারণ যাত্রীদের কি চিন্তার কারণ আছে?
সাধারণ যাত্রীদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বছরে কয়েকবার বিমানে যাতায়াত করা একজন মানুষের মোট বিকিরণ-সংস্পর্শ একজন পেশাদার পাইলট বা কেবিন ক্রুর তুলনায় অনেক কম।

তাই এই গবেষণার অর্থ ‘বিমানযাত্রা ক্যানসারের বড় কারণ’ নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে বিমানে কাজ করা মানুষদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে আরও নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। দরকার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী ক্যানসার স্ক্রিনিং। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ কর্মজীবনে পাইলট ও কেবিন ক্রুদের যে ধরনের বিকিরণ ও জীবনযাপনের মধ্যে থাকতে হয়, তা নিয়ে আরও গবেষণা ও নজরদারির প্রয়োজন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement