শরীরচর্চা করার সময় পাচ্ছেন না? কাজের চাপে সকালটা কেটে যাচ্ছে, সন্ধ্যেটাও ব্যস্ততায় ভরা? তাহলে কি ব্যায়াম বাদ? মোটেই নয়। অন্তত রাহুল গান্ধীর ফিটনেস দর্শন তেমনটা বলে না। তাঁর কাছে শরীরচর্চার জন্য ‘আদর্শ সময়’ বলে কিছু নেই। সময় বের করে নেওয়াটাই আসল।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে ‘আস্ক মি এনিথিং’ পর্বে নিজের শরীরচর্চার অভ্যাস নিয়ে কথা বলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। জানান, তিনি মার্শাল আর্ট করেন। সম্প্রতি যোগাসনও শুরু করেছেন। তাঁর শরীরচর্চার লক্ষ্য শুধু পেশির শক্তি বাড়ানো নয়, শরীরের অ্যারোবিক সক্ষমতা এবং নমনীয়তা বাড়ানোও।
আর সময়?
রাহুলের কথায়, 'ফিটনেস আমি অবসর সময়ে করি না। সময় যাই হোক, তার জন্য সময় বের করি। রাত ১১টায় করতে হলেও রাত ১১টায় করি।' এই একটি কথাতেই যেন তাঁর ফিটনেস দর্শনের সারকথা। শরীরচর্চা কোনও 'ফাঁকা সময়ের কাজ' নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনেরই একটি অংশ।
সাইক্লিংয়ের উপকার অনেক। ছবি: সংগৃহীত
ব্যায়ামের ‘সেরা’ সময় খুঁজতে গিয়ে সময়টাই নষ্ট?
শরীরচর্চা শুরু করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় প্রথমেই খুঁজি—সকালে করব, না সন্ধ্যায়? জিম ভালো, না দৌড়? কতক্ষণ করব? কোন ব্যায়ামে সবচেয়ে বেশি ক্যালরি ঝরবে? কিন্তু দীর্ঘদিন শরীরচর্চা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এত হিসাবের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস।
যে ব্যায়াম আপনার ভালো লাগে এবং ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত করা সম্ভব, সেটিই আপনার জন্য কার্যকর। হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার, দৌড়, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম বা কোনও খেলাধুলা—শরীরকে সক্রিয় রাখার পথ অনেক।
তবে রাত ১১টায় শরীরচর্চা করতেই হবে, এমন নয়। নিজের রুটিনের সঙ্গে মানানসই সময় বেছে নেওয়াই ভালো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ব্যায়ামের জন্য যেন ঘুমের সময় কমে না যায়।
দরকার নিয়মানুবর্তীতা। ছবি: সংগৃহীত
মার্শাল আর্টে শরীরের একাধিক দিকের চর্চা
মার্শাল আর্টকে নিজের ফিটনেস রুটিনের অংশ করেছেন রাহুল। এই ধরনের অনুশীলনে শুধু শক্তি নয়, ভারসাম্য, ক্ষিপ্রতা, শরীরের সমন্বয় এবং সহনশক্তিরও চর্চা হয়। বিভিন্ন মার্শাল আর্টে শরীরের ওজন ব্যবহার করে ব্যায়াম, দ্রুতগতির মুভমেন্ট এবং বারবার অনুশীলন করতে হয়। ফলে একসঙ্গে কার্ডিও ও শক্তিবর্ধক শরীরচর্চার উপাদান পাওয়া যেতে পারে।
তবে নতুনদের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শেখাই নিরাপদ। শরীরের সক্ষমতার বাইরে গিয়ে অনুশীলন করলে চোট লাগার আশঙ্কাও থাকে।
যোগাসন কেন যোগ করলেন রাহুল?
সম্প্রতি যোগাসনও শুরু করেছেন রাহুল। মার্শাল আর্ট বা শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের সঙ্গে যোগাসন যোগ করলে শরীরের নমনীয়তা, ভারসাম্য ও মুভমেন্টের ক্ষমতার দিকে আলাদা করে নজর দেওয়া যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের অনুশীলনও যোগাসনের অন্যতম অংশ। অর্থাৎ, রাহুলের রুটিনে একদিকে শক্তি ও সহনশক্তির অনুশীলন, অন্যদিকে নমনীয়তা ও ভারসাম্যের চর্চা—ফিটনেসের বিভিন্ন দিককেই একসঙ্গে রাখার চেষ্টা।
মার্শাল আর্ট। ছবি: সংগৃহীত
শুধু ব্যায়াম করলেই ফিট থাকা যায়?
রাহুলের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সম্ভবত এখানেই। তাঁর মতে, ব্যায়াম করলেই হবে না; খাবারদাবার এবং জীবনযাপনের অন্যান্য অভ্যাসও ঠিক রাখতে হবে। অতিরিক্ত মদ্যপান, বারবার অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বা সারাক্ষণ টুকিটাকি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে শুধু ব্যায়াম করে তার প্রভাব পুষিয়ে নেওয়া কঠিন। তাই ফিটনেসকে আলাদা কোনও কাজ হিসেবে না দেখে জীবনযাপনের সামগ্রিক ভারসাম্য হিসেবে দেখার কথা বলেছেন তিনি।
সুষম খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেয়। আর নিয়মিত শরীরচর্চা শরীরকে সক্রিয় রাখে। তিনটিকে একসঙ্গে নিয়েই তৈরি হয় স্বাস্থ্যকর রুটিন।
‘পারফেক্ট’ হওয়ার দরকার নেই
ফিট থাকার জন্য প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিম করতে হবে, এমন নয়। আবার একদিন খুব বেশি ব্যায়াম করে পরের কয়েক দিন কিছু না করলেও লাভ কম। বরং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এমন একটি রুটিন তৈরি করা দরকার, যা দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা যায়।
রাহুলের কথাতেও তাই বারবার ফিরে আসে একটি বিষয়, ধারাবাহিকতা। তাঁর কথায়, ফিটনেস আসলে আপনি কোন নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করছেন, তা নয়। নিয়মিত করে যাওয়া এবং সময়ের সঙ্গে সেই অভ্যাসের সুফল জমতে দেওয়াটাই আসল। অর্থাৎ, ফিট থাকার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে সে-ই, যে সবচেয়ে কঠিন ব্যায়াম করে নয়, যে মাঝপথে থেমে যায় না।
