সন্তান ধারণের অক্ষমতা নিয়ে আমাদের সমাজে আজও সব দোষ গিয়ে পড়ে নারীর ঘাড়ে। অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, বন্ধ্যাত্ব নারী বা পুরুষ যে কারও হতে পারে। অনেক সময় সমস্যা থাকে উভয়েরই। এক বছর কোনও সুরক্ষা ছাড়াই মিলনের পর সন্তান না এলে তাকেই চিকিৎসা পরিভাষায় বন্ধ্যাত্ব বলা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
কেন হয় এই সমস্যা?
পুরুষের বন্ধ্যাত্বের (Male Infertility) মূলে থাকে শুক্রাণুর ত্রুটি। কখনও শুক্রাণু তৈরি হয় না, কখনও সংখ্যায় খুব কম থাকে। আবার শুক্রাণু থাকলেও তার গতিশীলতা কম বা আকৃতিগত সমস্যা থাকলে ডিম্বাণু নিষিক্ত হতে পারে না। অনেক সময় শুক্রাণু ঠিক থাকলেও শারীরিক অক্ষমতার কারণে তা নারীর জননতন্ত্রে পৌঁছাতে পারে না।
কারণগুলো কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুক্রাণু কমে যাওয়ার ৯০ শতাংশ কারণই অজানা। তবে বাকি ১০ শতাংশের পেছনে রয়েছে আধুনিক জীবনযাত্রা ও পরিবেশ দূষণ। ল্যাপটপ-মোবাইলের তেজস্ক্রিয় রশ্মি, ধূমপান, মদ্যপান এবং খাদ্যে ভেজাল শুক্রাণুর ঝিল্লি নষ্ট করে দেয়। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বড় বাধা। ক্যানসারের কেমোথেরাপি বা কিছু অ্যান্টি-আলসার ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে 'এজোস্পার্মিয়া' বলে। জন্মগত ত্রুটি বা সংক্রমণজনিত কারণে শুক্রাণু চলাচলের নালী বন্ধ থাকলেও বীর্যে শুক্রাণু পাওয়া যায় না।
ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসা ও সমাধান
সুখবর হল, আধুনিক চিকিৎসায় এর সমাধান সম্ভব। হরমোনের ঘাটতি থাকলে হরমোন থেরাপি কার্যকর। তবে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা সবচেয়ে জরুরি। অতিরিক্ত গরমে কাজ করা এড়িয়ে চলা, অর্গানিক খাবার খাওয়া এবং নেশাদ্রব্য বর্জন করা প্রাথমিক পদক্ষেপ।
যাঁদের শুক্রাণু ১০ মিলিয়নের কম, তাঁদের জন্য টেস্টটিউব পদ্ধতি বা আইভিএফ (IVF) আশীর্বাদ। শুক্রাণু ৫ মিলিয়নের নিচে হলে 'ইকসি' (ICSI) পদ্ধতিতে সুফল পাওয়া যায়। এমনকী নালী বন্ধ থাকলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেও সমাধান মেলে। ক্যানসার আক্রান্তরা চিকিৎসার আগে শুক্রাণু সংরক্ষণ করেও ভবিষ্যতে বাবা হতে পারেন। তাই লোকলজ্জা ছেড়ে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
