বর্ষা এলেও গরমের অস্বস্তি এখনও পুরোপুরি যায়নি। গরম শুধু অস্বস্তিই বাড়ায় না, শরীরের জল ও খনিজের ভারসাম্যও নষ্ট করে। এর প্রভাব পড়ে আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম, হজম, ত্বক, এমনকী মানসিক সতেজতার উপরও। এই সময় সুস্থ থাকতে প্রয়োজন সচেতন জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং স্কিনকেয়ার। এমনই পরামর্শ দিলেন বিশিষ্ট ডায়েটিশিয়ান, অ্যাডভান্সড কসমেটোলজিস্ট, অ্যারোমাথেরাপিস্ট এবং রেগোরাস স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা রাখি মাইতি
ডিহাইড্রেশন: শুধু জল পানই যথেষ্ট নয়
গরমে সবচেয়ে বেশি দেখা দেয় ডিহাইড্রেশনের সমস্যা। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা, অতিরিক্ত ঘাম বা বাইরে পরিশ্রমের ফলে শরীর থেকে শুধু জল নয়, প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইটও বেরিয়ে যায়। তাই শুধুমাত্র জল পান করলেই সব সময় চাহিদা পূরণ হয় না। যাঁরা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করেন বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন, তাঁদের ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করা দরকার। এতে শরীরে খনিজের ঘাটতি পূরণ হয় এবং ক্লান্তিও কমে।
ডাবের জলের উপকার অনেক। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন মরশুমি ফল ও প্রাকৃতিক পানীয়
গরমে বেল, তরমুজ, শসা ও ডাবের জল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এগুলো শরীরকে হাইড্রেট রাখার পাশাপাশি ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
ঐতিহ্যবাহী খাবারেই লুকিয়ে গরমে স্বস্তির উপায়
খাদ্যাভ্যাসে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারেরও গুরুত্ব রয়েছে। ভাতের সঙ্গে টক দই খেলে হজমশক্তি ভালো থাকে, অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য বজায় থাকে এবং গরমের ক্লান্তিও অনেকটাই কমে।
আম ও দই: সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর এক জুটি
আমপ্রেমীদের জন্যও রয়েছে সুখবর। আমের সঙ্গে দই খেলে ফলের প্রাকৃতিক শর্করা তুলনামূলক ধীরে শোষিত হতে পারে, পাশাপাশি হজমও সহজ হয়। ফলে গ্রীষ্মের এই জনপ্রিয় ফলটিকে আরও স্বাস্থ্যকর উপায়ে উপভোগ করা সম্ভব।
গরমে সেরা জুটি। ছবি: সংগৃহীত
দিনের শেষে শরীর-মনকে দিন আরামের ছোঁয়া
খাবারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচর্যাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রাতে ঘুমনোর আগে নিম, আমলকি ও আমন্ডের নির্যাস মেশানো জলে স্নান করলে ত্বক ও চুল যেমন ভালো থাকে, তেমনই জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি কমে এবং শরীর-মন প্রশান্ত হয়। এছাড়া ঘুমানোর আগে ৫ থেকে ১০ মিনিট গরম জলে বাথ সল্ট মিশিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে রাখার অভ্যাস শরীরকে শিথিল করে, ক্লান্তি কমায় এবং আরামদায়ক ঘুমে সহায়তা করে।
গরমে ত্বকের জন্য হালকা যত্নই সবচেয়ে কার্যকর
ত্বকের যত্নে হালকা ও জেল-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার উপকারী। বিশেষ করে অ্যালোভেরা-সমৃদ্ধ জেল ত্বককে আর্দ্র রাখে, দ্রুত শোষিত হয় এবং গরমে চিটচিটে অনুভূতি তৈরি করে না। নারী-পুরুষ সবার জন্যই এটি উপযোগী।
সানস্ক্রিন মাস্ট। ছবি: সংগৃহীত
সানস্ক্রিন হোক প্রতিদিনের অভ্যাস
সানস্ক্রিন ব্যবহার কোনও বিলাসিতা নয়, বরং প্রতিদিনের প্রয়োজন। ভারতীয় আবহাওয়ার উপযোগী ভেষজ উপাদানে তৈরি সানস্ক্রিন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করার পাশাপাশি ট্যানের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করে।
ভেতরে পুষ্টি, বাইরে পরিচর্যা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই গরমে সুস্থতা
আয়ুর্বেদের প্রাচীন জ্ঞান এবং আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের সমন্বয়ে গরমে সুস্থ থাকতে চাইলে শরীরকে ভেতর থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি ও পানীয় পানে সুরক্ষিত রাখতে হবে, আর বাইরে থেকে নিশ্চিত করতে হবে ত্বকের সঠিক পরিচর্যা। বর্ষা এলেও গরমের প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি, তাই সচেতন থাকাই এখন সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
