২৪ ঘণ্টা, ৩৬৫ দিন—ছুটি নেই একটি মুহূর্তও। বাড়ির বাকি সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মাঝেসাঝে বিশ্রাম পেলেও, ফ্রিজের সেই উপায় নেই। আপনি ঘুমান, বেড়াতে যান কিংবা অফিসে থাকুন, রান্নাঘরের এক কোণে সে একটানা কাজ করে যায়। আর ঠিক এই কারণেই বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের একটা বড় অংশজুড়ে থাকে এই যন্ত্রটির নীরব অবদান। একটু পুরনো হলেই সে অলক্ষ্যে আপনার পকেট কাটতে শুরু করে বইকি! আপাতদৃষ্টে মনে হতে পারে ফ্রিজ তো দিব্যি ঠান্ডা করছে, তাহলে সমস্যা কোথায়? গলদটা লুকিয়ে আছে প্রযুক্তির বয়সে।
ফাইল ছবি
অনেকের বাড়িতেই এক দশক বা তার বেশি পুরনো ফ্রিজ রয়েছে। ভাবছেন, জিনিসটা যখন দিব্যি চলছে, তখন শুধু শুধু কেন বদলাবেন? এখানেই ভুল করছেন। ফ্রিজ পুরনো হলে তার ভেতরের যন্ত্রাংশ কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে। কমপ্রেসর দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখতে তাকে অনেক বেশি কাজ করতে হয়। শুধু তাই নয়, ফ্রিজের দরজার রবার বা গ্যাসকেট আলগা হয়ে গেলে ভেতরের ঠান্ডা হাওয়া বাইরে বেরিয়ে যায়। কনডেন্সার কয়েলে ধুলো জমলে কুলিং ক্ষমতা কমে। ফলে ফ্রিজকে দ্বিগুণ শক্তিতে কাজ করতে হয়। আর যন্ত্র যত বেশি খাটবে, মিটারের চাকা তত দ্রুত ঘুরবে। বিদ্যুৎ বিলের অঙ্কটাও এক লাফে অনেকটা বেড়ে যাবে। ১০-১২ বছর আগের প্রযুক্তির চেয়ে এখনকার নতুন প্রযুক্তির ফ্রিজ অনেক বেশি সাশ্রয়ী।
ফাইল ছবি
ফ্রিজ দেহ রাখার আগে কিছু স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। সেগুলোর দিকে নজর রাখা জরুরি। আপনার ফ্রিজের বয়স কি দশ পেরিয়ে গিয়েছে? খেয়াল করে দেখুন, কমপ্রেসর কি সারাক্ষণই একটানা ডেকে চলেছে? খাবার কি আগের চেয়ে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে? মাঝেমধ্যেই ফ্রিজে বরফ জমে পাহাড় হচ্ছে বা অদ্ভুত শব্দ শোনা যাচ্ছে? অথবা কোনও কারণ ছাড়াই প্রতি মাসে বিদ্যুতের বিল বাড়ছে? এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝবেন, ফ্রিজটিকে এবার বিদায় জানানোর সময় এসেছে। বারবার টাকা খরচ করে পুরনো ফ্রিজ মেরামত করার চেয়ে নতুন প্রযুক্তির একটি আধুনিক ফ্রিজ কেনা অনেক বেশি লাভজনক। এতে যেমন ঝক্কি কমবে, তেমনই প্রতি মাসের কারেন্ট বিলের খরচও এক ধাক্কায় কমে যাবে অনেকটাই। বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিন, অপচয় রুখে দিন।
