বাইরে বৃষ্টি, ঘরে প্যাচপ্যাচে ভাব, অথচ এসি চালালেই গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে! আবার এসি অফ করে দিলে, জানলা-দরজা বন্ধ রাখলে, একটু পর থেকেই ঘরের ভিতর গুমোট লাগতে শুরু করে। গৃহস্থ তবে কোনদিকে যাবেন?
Advertisement
বর্ষাকালে গরম কিছুটা কমলেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে তাপমাত্রা কম থাকলেও ঘরে অস্বস্তিকর গুমোট ভাব তৈরি হয়। ঘামও হয় প্রায়শই। এই সময় সঠিক নিয়ম না মেনে এসি চালালে (Monsoon AC Tips) বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যেতে পারে, আবার ঘরও আর্দ্রতামুক্ত হয় না।
বর্ষায় এসি ব্যবহার করতে চাইলে তাই মেনে চলুন কয়েকটা কয়েকটি সহজ নিয়ম।
- এসির পাশাপাশি ফ্যান চালিয়ে রাখুন। এতে ঠান্ডা হাওয়া দ্রুত সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়বে। এবং আপনি সেই বুঝে জলদি বন্ধ করে দিতে পারবেন এসি। গরমকালে যেমন এসি বন্ধ করলেই ঘর আবারও গরম হয়ে ওঠে, বর্ষাকালে তা অপেক্ষাকৃত কম হয়। ফলে একবার ঘরের তাপমাত্রা কমিয়ে নেওয়ার পর জানলা-দরজা বন্ধ রাখতে পারলে, সে শীতলভাব দীর্ঘ সময় ধরা থাকে।
- অনেকেই মনে করেন ১৮ বা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালালে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হবে। বাস্তবে এতে বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়। তাছাড়া বর্ষাকালে বাইরের বাতাস ভিজে হওয়ায়, এত কম তাপমাত্রায় থাকলে হাঁচি-কাশিও হতে পারে। বর্ষাকালে ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সবচেয়ে উপযুক্ত।
- বর্ষাকালে মূল সমস্যা গরম নয়, অতিরিক্ত আর্দ্রতা। তাই সবসময় 'কুল মোড' ব্যবহার করার পরিবর্তে 'ড্রাই মোড' চালানো বেশি কার্যকর। এতে ঘর অনেক বেশি আরামদায়ক লাগে এবং সাধারণ কুল মোডের তুলনায় বিদ্যুৎও কম খরচ হয়।
- ধুলোবালি ও আর্দ্রতার কারণে বর্ষাকালে এসির এয়ার ফিল্টার দ্রুত নোংরা হয়ে যায়। ফিল্টার ময়লা থাকলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, ফলে এসির কুলিং ক্ষমতা কমে যায় ও বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে।
- অনেকেই শুধু ঘরের ভেতরের ইউনিট পরিষ্কার করেন, কিন্তু বাইরের আউটডোর ইউনিট-এর দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সেখানে পাতা, ধুলো বা ময়লা জমে যেতে পারে। এতে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
