সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনার ইচ্ছে হল ধোঁয়া ওঠা গরম দোসা খাওয়ার। কিন্তু ইচ্ছে হলেই তো আর উপায় হয় না! মুশকিল হল, চাল-ডালের ব্যাটারের সঠিক ঘনত্ব মিলিয়ে রান্না। কাগজের মতো পাতলা ও মুচমুচে দোসা রান্না করা মোটেই সহজ নয়। রেস্তরাঁর রাঁধুনিদের মতো অমন নিখুঁত দোসা রান্না গৃহস্থদের কাছে এক প্রকাণ্ড চ্যালেঞ্জ বইকি! তবে প্রযুক্তি হাত গুটিয়ে বসে নেই। আর তাই তো এমন ঝক্কি সামলানো এখন বাঁ হাতের খেল। বাজারে এসে গিয়েছে এমন এক আশ্চর্য যন্ত্র, যা নিমেষেই বানিয়ে দেবে নিখুঁত দোসা। নাম তার ‘দোসা প্রিন্টার’ (Dosa Printer)।
ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
যন্ত্রটির নাম শুনে কাগজ আর কালির প্রিন্টারের কথা মনে পড়তেই পারে। তবে এই প্রযুক্তি কিন্তু কোনও রাসায়নিক থ্রি-ডি প্রিন্টিং নয়। হেঁশেলের কাউন্টারটপে সহজেই থিতু হওয়া এই যন্ত্রটি সম্পূর্ণ যান্ত্রিক কৌশলে চলে। এতে একটি ব্যাটার রাখার নির্দিষ্ট পাত্র এবং ঘোরানো তাওয়ার মতো রোলার ব্যবস্থা থাকে। ব্যবহারকারীকে শুধু চাল ও বিউলির ডালের সুষম ব্যাটারটি নির্দিষ্ট পাত্রে ঢেলে দিতে হবে। বাকি দায়িত্ব যন্ত্রটির। রোলারটি গরম হতেই পরিমাপমতো মিশ্রণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার তলে ছড়িয়ে পড়ে। আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তৈরি হয়ে বেরিয়ে আসে একেবারে পাতলা, মুচমুচে দোসা।
কী কী নিয়ম মানবেন?
রান্নাঘরের এই নতুন সঙ্গীকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। সব খেলাটাই লুকিয়ে রয়েছে ব্যাটারের ঘনত্বের মধ্যে। ব্যাটার যদি খুব বেশি ঘন হয়, তবে যন্ত্রের নল দিয়ে তা সঠিকভাবে বেরোবে না। আবার মিশ্রণ অতিরিক্ত পাতলা হলে দোসা ভাঙাচোরা ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। সেই কারণে প্রতিটি প্রস্তুতকারক সংস্থাই সঠিক মাপ ও ঘনত্বের নির্দেশিকা ডিব্বা বন্দি করে দেয় যন্ত্রের সঙ্গেই।
দাম কত এই যন্ত্রের?
এমন আধুনিক প্রযুক্তির স্বাদ পেতে পকেটে খুব বেশি টান পড়বে না। সাধারণত ১০ হাজার টাকা থেকেই শুরু হচ্ছে এই স্বয়ংক্রিয় দোসা প্রিন্টারের দাম। পরিশ্রম বাঁচিয়ে মিনিটে মিনিটে গরম দোসা পরিবেশনের ক্ষেত্রে এই যন্ত্রটি নিঃসন্দেহে আধুনিক হেঁশেলের নয়া চমক।
