চাকরি ক্ষেত্রে বারবার ব্যর্থতা? যোগ্যতার ঢাল থাকা সত্ত্বেও কি পদোন্নতির চাবিকাঠি অধরা? অতিরিক্ত পরিশ্রমেও মিলছে না কাঙ্খিত সাফল্য? পদোন্নতির দৌড়ে বারবার কি পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে সহকর্মীদের থেকে? তাহলে সাবধান হওয়া জরুরি বইকি! এর কারণ হতে পারে আপনার কর্মস্থলের নেতিবাচক প্রবাহ। বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Tips for Office) মতে, চারপাশের পরিবেশ ও দিক নির্দেশক শক্তি আমাদের কর্মক্ষমতা ও চিন্তাভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
প্রতীকী ছবি
কী করবেন?
অষ্টদিকের মধ্যে উত্তর দিক অত্যন্ত মহিমান্বিত। বাস্তু মতে, এই দিক ধনপতি কুবের এবং বুধ গ্রহের অবস্থানস্থল। উত্তর দিক হল নতুন সুযোগ, আর্থিক বৃদ্ধি ও পেশাগত যোগাযোগের মূল কেন্দ্র। শাস্ত্রীয় পরিভাষায় একে ‘জলতত্ত্বের’ স্থান বলা হয়। প্রবাহমান জল যেমন গতিশীলতার প্রতীক, তেমনই কর্মজীবনে স্থবিরতা কাটাতে জলের উপস্থিতি মোক্ষম দাওয়াই। তাই উত্তর দিকে সঠিক উপায়ে জলতত্ত্বের সংযোজন করলে বন্ধ ভাগ্য খুলে যেতে বাধ্য।
পেশাগত জীবনে স্থবিরতা কাটাতে উত্তর অভিমুখে জল বা জল সম্পর্কিত বস্তু স্থাপন করা অত্যন্ত ফলদায়ী। নিজের কাজের টেবিল কিংবা ঘরের উত্তর ব্লকে একটি পরিষ্কার কাচের পাত্রে পরিচ্ছন্ন জল ভরে রাখা যেতে পারে। নান্দনিকতার ছোঁয়া দিতে পারেন ছোট্ট কৃত্রিম জলপ্রপাত বা 'ওয়াটার ফাউন্টেন'-এর মাধ্যমে। মৃদু জলতরঙ্গের শব্দ মানসিক উদ্বেগ কমিয়ে মনকে স্থির করে। ছবি লাগাতে চাইলে নীল রঙের কোনও জলাশয়ের দৃশ্য কিংবা নীল শেডের শো-পিস রাখা অত্যন্ত শুভ।
বাস্তুশাস্ত্র কেবল অফিসের নির্দিষ্ট টেবিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যাঁরা বাড়ি থেকে কাজ করেন, তাঁদের কাজের জায়গাটি হতে হবে ‘ব্রহ্মস্থান’ ও উত্তর কোণের মেলবন্ধনে একদম পরিচ্ছন্ন। ল্যাপটপ, ডেক্স বা চার্জিং সকেটের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে কিছুটা নিরাপদ দূরত্বে রাখতে পারেন একটি স্বচ্ছ কাচের জলের বোতল। মাটির জলপাত্র রাখাও শুভ। এটি কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত সিদ্ধান্তহীনতা কাটায়, মানসিক ক্ষুরধার ভাব বৃদ্ধি করে এবং নতুন ভাবনার স্ফুরণ ঘটায়।
প্রতীকী ছবি
যে ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন
বাস্তুশাস্ত্রে শক্তি সংশোধনের পাশাপাশি কিছু কঠোর নিয়মের কথা বলা হয়েছে। উত্তর দিকে রাখা জল যেন কখনও বাসি বা নোংরা না হয়। প্রতিদিন তা পরিবর্তন করা বাঞ্ছনীয়। ভাঙা পাত্র বা ফাটল ধরা কোনও বস্তু এই স্থানে রাখা অশুভ শক্তিকে আমন্ত্রণ জানায়। এছাড়া, উত্তর দিকে ছেঁড়া কাগজ, অপ্রয়োজনীয় ফাইল বা পুরোনো জুতো রাখা একেবারেই অনুচিত। এই স্থান যত হালকা ও পরিষ্কার থাকবে, ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার তত বেশি হবে।
মনে রাখা দরকার, বাস্তুর এই অনুঘটকগুলি পরিবেশকে অনুকূল করে ঠিকই, তবে তা নিরলস পরিশ্রমের বিকল্প নয়। নিজের দক্ষতাকে সানিয়ে তোলা, সময়ানুবর্তিতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে যদি সঠিক বাস্তু অনুশাসন মিলে যায়, তবেই ত্বরান্বিত হয় জয়যাত্রা।
