গত বছরের পুনরাবৃত্তি। গ্রীষ্মের পোড়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর দাপটে বিপর্যস্ত গোটা উত্তরভারত। দিল্লি, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হিমাচলের বহু এলাকা একাটানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন। দিল্লিতে ঝড়জলের মরশুমে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। অন্যদিকে ধস নেমেছে উত্তরাখণ্ডে। শুধু বৃহস্পতিবারই উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে মৃতের সংখ্যা ১০। নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমার কাছে। এর জেরে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। ধস নামায় হিমাচল ও উত্তরাখণ্ডের বহু রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বহু এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এই অবস্থায় মৌসম ভবন নতুন করে দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়ায় প্রমাদ গুনছে বিভিন্ন রাজ্যের প্রশাসন।
গুজরাটের সুরাটেই গত কয়েক দিনের দুর্যোগে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দিল্লির কোনও কোনও এলাকা ২৪ ঘণ্টায় ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাগুলি নদীতে পরিণত হয়েছে। সাবওয়েগুলির জল থইথই অবস্থা। শুক্রবারও হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে রাজধানীতে। এদিন উত্তরাখণ্ডের বিচ্ছিন্ন এলাকাতে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অলকানন্দা ও মন্দাকিনি নদীতে জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় রুদ্রপ্রয়াগ জেলার স্কুলগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে, উত্তরকাশী জেলার নলু পানিতে ভূমিধসের কারণে গঙ্গোত্রী হাইওয়ে অবরুদ্ধ। এর জেরে চরধাম যাত্রা ব্যাহত। ধসের মাটি-পাথর সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা হচ্ছে। এদিকে হিমাচলে দুর্যোগের জেরে অন্তত ৭৫টি রাস্তা বন্ধ। ২৯টি ট্রান্সফর্মার খারাপ হয়ে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন বহু এলাকায়। শিমলা ও সিমৌরে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পূর্বভাস রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী।
একাটানা বর্ষণে জলে ভাসছে উত্তরপ্রদেশও। শুক্রবার রাজ্যটিতে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বভাস রয়েছে। বৃষ্টি চলবে ১১ জুলাই অবধি। ২-৪ ডিগ্রি তাপমাত্রার পতন হতে পারে। এদিকে গাজিয়াবাদ, মেরাট, হাপুর, বুলন্দশহর, বাঘপাত, মুজাফফরনগর, বিজনোর, শাহারানপুর এবং মোরাদাবাদে জেলায় অতি বৃষ্টির জেরে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। অতি বৃষ্টিতে ভাসছে গুজরাটের সুরাট শহরও।
