লাগাতার অভিযানে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে মাওবাদীদের। একের পর এক শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যুতে কার্যত তছনছ হয়েছে মাও সংগঠন। মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে এবার মরণ কামড় দিল মাওবাদীরা। ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের পাতা ৬ আইইডি বিস্ফোরণে জখম হলেন ১১ নিরাপত্তারক্ষী। রবিবার এই হামলা ঘটে ছত্তিশগড়ের বিজাপুরে। আহত জওয়ানদের উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রায়পুরের হাসপাতালে।
নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে জানা গিয়েছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে রবিবার বিজাপুরের উসুর এলাকায় অভিযানে নামে নিরাপত্তাবাহিনী। খবর ছিল, ছত্তিশগড় ও তেলেঙ্গানা সীমানায় অবস্থিত করেগুট্টা পাহাড়ের জঙ্গলে ঘাঁটি গেড়েছে সশস্ত্র গোরিলা বাহিনীর সদস্যরা। সেখানে মাওবাদীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড, সিআরপিএফ ও কোবরা কমান্ডোদের যৌথ বাহিনী। অভিযান চলাকালীন মাওবাদীদের পেতে রাখা আইইডিতে পরপর বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই যখন হন ১১ জন নিরাপত্তারক্ষী।
জানা গিয়েছে, আহতদের তালিকায় রয়েছেন কোবরা বাহিনীর এক সাব ইনস্পেক্টর, ছত্তিশগড় পুলিশের এক আধিকারিক-সহ ৯ জওয়ান। যেখানে এই বিস্ফোরণ ঘটে সেই এলাকা অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় যথেষ্ট বেগ পেতে হয় উদ্ধারকারীদের। দীর্ঘ চেষ্টার পর ১১ জনকেই উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে নিয়ে যাওয়া হয় রায়পুরে। সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই জওয়ানরা। সূত্রের খবর, আহতদের মধ্যে ৩ জওয়ানের পায়ে আঘাত লেগেছে, বোমার স্পিন্টারে চোখে আঘাত লেগেছে আরও ৩ জনের।
প্রসঙ্গত, মাওবাদকে দেশ থেকে নির্মুল করতে কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্র। গত বছর এই বিষয়ে বার্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি, লড়াই এখন শেষ পর্যায়ে। চূড়ান্ত হামলার সময় এসেছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে আমরা দেশ থেকে মাওবাদ নির্মূল করব।’’ এ যে নিছক মুখের কথা নয়, পরিসংখ্যানই তা স্পষ্ট করে দেয়। রিপোর্ট বলছে, চলতি বছরেই নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে ২০০-র বেশি মাওবাদীদের মৃত্যু হয়েছে, আত্মসমর্পণের অঙ্ক হাজার ছাড়িয়েছে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকতেই এবার মরণ কামড় দিল মরিয়া মাওবাদীরা
