‘বন্দে মাতরম’ গান সৃষ্টির ১৫০ বছর উপলক্ষে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়েকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে বিস্তর সমালোচনার মুখে পড়েন। বাংলার মনীষীকে অপমান করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। আর এবার কর্তব্য পথে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীর নামবিভ্রাট। ট্যাবলোয় থাকা মাতঙ্গিনীর মূর্তির পরিচয় করাতে গিয়ে 'মান্তাগিনি' বলে সম্বোধন করেন সঞ্চালিকা। ভুল সংশোধনও করেননি তিনি। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও। যা নিয়ে নানা মহলে চলছে জোর বিতর্ক।
৭৭ তম সাধারণতন্ত্র দিবসে বাংলার ট্যাবলোর একেবারে সামনেই ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে দেখা গিয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। ট্যাবলোয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বিবেকানন্দ, বিনয়-বাদল-দীনেশ, মাতঙ্গিনী হাজরার মতো বিপ্লবীদেরও তুলে ধরা হয়। বাংলাকে স্বাধীন করতে কত রক্ত দিয়েছে বাঙালি, তা তুলে ধরা হয়েছে ট্যাবলোয়। আর মাত্র কয়েকমাস পর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সংসদে দাঁড়িয়ে মোদির বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধন নিয়ে গর্জে ওঠে গোটা বাংলা। বারবার গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে বাংলার মনীষী, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমানের অভিযোগ উঠেছে। যদিও সে অভিযোগ নস্যাৎ করতে তৎপর পদ্ম শিবির। এই পরিস্থিতিতে কর্তব্য পথে বাংলার ট্যাবলোয় মনীষীদের উপস্থিতি যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
তবে সেই ট্যাবলোয় থাকা মনীষীদের পরিচয় করানোর সময় নাম বিভ্রাটকে মোটেও ভালো চোখে দেখছেন না কেউ। নানা মহলে এই নাম অপভ্রংশ নিয়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। এই প্রথমবার নয়। এর আগে সংসদে দাঁড়িয়ে বিজেপি সাংসদ দীনেশ শর্মা মাতঙ্গিনী হাজরার নাম ভুল উচ্চারণ করেন। ‘মাতা গিনি হাজরা’ বলে উচ্চারণ করে বাঙালি আবেগে ধাক্কা দেন। সেবার সোশাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয় তৃণমূল। যদিও গেরুয়া শিবিরের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
